কিশোরগঞ্জের নিকলীতে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১০ টার থেকে বিকাল পর্যন্ত নিকলী সদরের কুর্শা পশ্চিমপাড়া ও বন্দের বাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিনসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ একটি পাগলা কুকুর গ্রামে ঢুকে কুকুরের সামনে নারী, পুরুষ, ও শিশুসহ যাকে পেয়েছে তাকেই কামড়াতে থাকে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাগলা কুকুরটিকে নিয়ন্ত্রণ না করায় বিকাল ৫টা নাগাদ বিভিন্ন জায়গাতে গিয়ে পথচারীদের উপর আক্রমণ করে। কুকুরের কামড়ে অন্তত ২৫ জন আহত হয়। এমতাবস্থায় আশপাশের গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে ধাওয়া করলে কুকুরটি পালিয়ে যায়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিনসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ইনজেকশন নিয়েছেন।কুকুরের কামড়ের আহত সুমন মিয়া (২৮) বলেন, রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাকে কুকুর কামড় দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কুকুর নিধনের কোনো ব্যবস্থা নাই। আমাদের গ্রামে গ্রামে শত শত কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে, মানুষকে কামড় দিয়ে আহত করছে। আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে এই পাগল কুকুরটিকে ধরা হয় অথবা মেরে ফেলা হয়।কুকুরের কামড়ে আহত মিজানের ছেলে নিজাম বলেন, আমার বাবা দোকানে যাচ্ছিল। হঠাৎ কুকুর এসে বাবার পায়ে কামড় দেয়। পরে এলাকাবাসী বাবাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভ্যাকসিনসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।আরেক ভুক্তভোগী তাসলিমা আক্তার বলেন, আমি ঘর থেকে জরুরি কাজে বাইরে বের হচ্ছিলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ পেছন থেকে একটা পাগলা কুকুর এসে আমার পায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং শক্ত করে কামড় দিয়ে ধরে। আমি যন্ত্রণায় চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের মানুষ ও আমার পরিবারের লোকজন ছুটে আসে। পরে তারা আমাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তাররা আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ইনজেকশন দিয়েছেন।”নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সজীব ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে আসা রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তির সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
