দেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর এখন সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। বরিশাল বিভাগে সংরক্ষিত আসনে কারা অগ্রাধিকার পাবেন—এ নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে চলছে নানা বিশ্লেষণ।বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্র ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, বিগত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, জেল-জুলুম ও হামলার শিকার হয়েছেন, তারাই এবার মূল্যায়িত হবেন। বিশেষ করে ২০০৮ সালের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া নারী নেত্রীদের নাম অগ্রাধিকার তালিকায় থাকতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে আভাস মিলেছে, আগামী ৭ থেকে ১০ এপ্রিলের মধ্যে সংরক্ষিত ৫০টি আসনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, বিজয়ী জোটের প্রধান শরিক হিসেবে বিএনপি ৩৫টি এবং জামায়াত ১৩টি আসন পেতে পারে।বরিশালে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের অন্যতম কাণ্ডারি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনকে সম্প্রতি বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তিনি সংরক্ষিত আসনের দৌড়ে থাকছেন না বলে জানা গেছে। ফলে এই বিভাগে অন্য ত্যাগী নেত্রীদের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।১. আফরোজা খানম নাসরিন: বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। গত ১৭ বছরে প্রতিটি আন্দোলনে মাঠে থাকা এই নেত্রী ৯ বার গ্রেপ্তার ও অসংখ্য মামলার শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে পুলিশি নির্যাতনের মুখেও তিনি আপসহীন ছিলেন।২. অধ্যাপিকা ফারহানা তিথি: বরিশাল মহানগর মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে দলের দুর্দিনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে আলোচনায় রেখেছে।৩. জিবা আমিনা আল গাজী: বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঝালকাঠি জেলা আহ্বায়ক কমিটির এই নেত্রীও রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে পরিচিত। দলের সংকটময় মুহূর্তে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা হাইকমান্ডের নজরে রয়েছে।৪. সালমা আলম লিলি তালুকদার: সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম তালুকদারের স্ত্রী ও বাউফল উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী লিলি তালুকদার পটুয়াখালী জেলা বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবে তিনিও মনোনয়নপ্রত্যাশী।তৃণমূলের একাধিক নেতা জানান, যদি রাজপথের পরীক্ষিত ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে সংকটের সময় কেউ ঝুঁকি নিতে চাইবে না। তাই তারা দলের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, “বিগত ১৭ বছর আমি রাজপথ ছাড়িনি। অমানুষিক নির্যাতন ও কারাবরণ করেছি। দল আমার ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করবে বলে আমি শতভাগ আশাবাদী।”এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
