চট্টগ্রামের আনোয়ারা সাব রেজিস্টার জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছেন দলিল লেখকরা। অভিযোগের জেরে আনোয়ারা দলিল লেখক সমিতি গত রবিবার (১৯ অক্টোবর) থেকে কলম বিরতি পালন করছেন। ফলে উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিস কার্যত এখন অচল।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জোবায়ের হোসেন সময়ের কন্ঠস্বর’কে বলেন, “এটা নিয়ে নিউজ করার দরকার নেই, সব সমাধান হয়ে যাবে। আগামীকালকে আসেন, আমি সব ঠিক করে দেব। দলিল লেখকদের কর্মবিরতি সম্পর্কেও তিনি বলেন সব ঠিক হয়ে যাবে।”এদিকে, সেবাগ্রহীতারা জমি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য বারবার আসছেন, কিন্তু খালি হাতে ফিরছেন। হাইলধর ইউনিয়নের খাসখামা এলাকার আবু তাহের বলেন, “পাঁচ দিন ধরে দলিল রেজিস্ট্রি করতে আসছি। দলিল লেখকরা কাজ বন্ধ রাখছে। বলছে, সাব রেজিস্টার ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ নেয় না।”আব্দুল হান্নান আরও যোগ করেন, “সরকারি নিয়ম মেনে ফি দিতে রাজি, কিন্তু অফিসের লোক অতিরিক্ত টাকা চাইলে সাধারণ মানুষ কষ্টে পড়ে।”স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম উদ্দিন বলেন, “একটি কবলার নকলের জন্য সরকারি ফি ৮৬৫ টাকা, কিন্তু আদায় হচ্ছে ২,০০০ টাকা। জমি রেজিস্ট্রেশনে অফিস খরচ ও অন্যান্য নামে ১% ঘুষ নেওয়া হয়। দানপত্র ও অন্যান্য দলিলে ৩০–৪০ হাজার টাকা না দিলে দলিল ফেরত দেওয়া হয়।”দলিল লেখক সমিতির সদস্যসচিব মো. ইব্রাহিম মুন্সী বলেন, “সাব রেজিস্টার নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। এতে আমাদের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। প্রতিবাদ জানালেও কোনো কর্ণপাত নেই। তাই বাধ্য হয়ে কলম বিরতি শুরু করেছি।”তিনি আরও বলেন, “অনিয়ম বন্ধ না হলে বড় কর্মসূচি নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জেলা সমিতির সহায়তায় অফিস অবরোধসহ লাগাতার আন্দোলন হবে।”কলম বিরতির কারণে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, সরকারও দৈনিক লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দৈনিক ৫০–৬০টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়, যা বর্তমানে বন্ধ।চট্টগ্রাম জেলা সাব রেজিস্টার খন্দকার জামিরুল রহমান বলেন, “অভিযোগ আমরা জেনেছি। যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছেন, আনোয়ারা সাব রেজিস্ট্রি অফিস দীর্ঘদিন অনিয়মের আশ্রয়স্থল। নতুন সাব রেজিস্টারের যোগদানের পর দুর্নীতির মাত্রা আরও বেড়েছে বলে তারা দাবি করছেন।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
