গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় চিকিৎসা সেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে একটি শিশু রোগীর রক্ত পরীক্ষার ঘটনায়। একই দিনে এলাকার ৩টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে ৩ ধরনের ভিন্ন রিপোর্ট পায় শিশুটির পরিবার। এতে চরম বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয় তাদের।বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিশুর বাবা।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের পাগলা থানার নিগুয়ারী গ্রামের আশিক মন্ডল তার ৩ বছর ৬ মাস বয়সী শিশু আবিদার জ্বর হলে গত (২৪ আগস্ট) তাকে মাওনার আল-হেরা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে দেখানো হয়। তিনি রোগী দেখার পর কিছু ওষুধ লিখেন এবং CBC, CRP করতে বলেন। পরের তাৎক্ষণিক রোগীকে এই হাসপাতালেই দুটি পরীক্ষা করা হয়। রক্ত পরীক্ষায় CRP = 52.3 আসে, যা দেখে চিকিৎসকরা শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ বলে দাবি করেন এবং তাৎক্ষণিক ইমারজেন্সি বিভাগে ভর্তি দেয়ার কথা বলেন। পরিবারের সন্দেহ হলে তারা একই পরীক্ষাটি পুনরায় মাওনার নিউ প্রেসক্রিপশন হাসপাতাল ও জহির মেডিকেলে করান। সেখানে যথাক্রমে CRP = 5.0 ও CRP = 6.0 রিপোর্ট আসে, যা সম্পূর্ণ ভিন্ন।এ ঘটনায় শিশুর পিতা আশিক মন্ডল বলেন, আল-হেরা মেডিকেল ভুল রিপোর্ট দিয়ে আমাদের ভয় দেখিয়েছে। এতে আমাদের পরিবারে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সঠিক তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা মাওনা এলাকার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।সচেতন নাগরিক সমাজের শ্রীপুর শাখার উপদেষ্টা সাঈদ চৌধুরী বলেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাসে আঘাত হানে। সঠিক ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত তদারকি না থাকলে এমন বিভ্রান্তিকর রিপোর্ট আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের উচিত এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর লাইসেন্স পর্যালোচনা করা।এ বিষয়ে আল-হেরা মেডিকেলের পরিচালক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হুমায়ুন কবির বলেন, এটা রক্তের একটি ছোট পরীক্ষা, জটিল কিছু নয়। এ ধরনের পরীক্ষায় মেশিনের কারণে সামান্য তারতম্য হতে পারে। এটি কোনো বড় সমস্যা নয়, বরং টেকনিক্যাল কারণে এমনটা ঘটতে পারে। আর ভর্তি করার বিষয়টি নিয়ে বলতে চাই, আমি কখনোই নিজের ইচ্ছায় কাউকে ভর্তি করি না। শুধুমাত্র রোগীর স্বার্থেই ভর্তি করা হয়ে থাকে।শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
