জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি নির্দেশনার পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় থেকে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতেও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে মার্কেট, শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সেই নির্দেশনা প্রকাশ্যেই লঙ্ঘিত হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম ভঙ্গ করলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ডিসির গণবিজ্ঞপ্তি লঙ্ঘন হলেও প্রশাসন রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতকানিয়ার কেরানীহাট, পৌরসভা, বাজালিয়া, কাঞ্চনা, এওচিয়াসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় সন্ধ্যার পরই জমে উঠছে কেনাবেচা। দোকানের আলো জ্বালিয়ে রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত স্বাভাবিক নিয়মেই ব্যবসা চলছে। ক্রেতাদের ভিড়ও কম নয়।বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে একাধিক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পোশাক, জুতা, কসমেটিকস, মুদি দোকান, মোবাইল শোরুম, ইলেকট্রনিক্সসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান তখনও খোলা রয়েছে। কোথাও কোথাও রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যবসা চলার তথ্য পাওয়া গেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, গণবিজ্ঞপ্তি জারির পর প্রথম দিকে প্রশাসনের কিছু তৎপরতা দেখা গেলেও বর্তমানে তা পুরোপুরি শিথিল হয়ে গেছে। কয়েকদিন মাইকিং, সতর্কবার্তা ও সীমিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর এখন আর কোনো তদারকি চোখে পড়ে না।কেরানীহাটের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শুরুতে একটু ভয় ছিল। পরে দেখি আর কেউ আসে না। এখন সবাই আগের মতো দোকান খোলা রাখছে।পৌর এলাকার এক দোকানদার বলেন, সন্ধ্যার পরই মূল বিক্রি হয়। ৭টায় দোকান বন্ধ করলে ব্যবসা চালানো কঠিন।তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন ভিন্ন। তাদের মতে, যদি সরকারি নির্দেশনা কার্যকর করার সক্ষমতা না থাকে, তাহলে এমন গণবিজ্ঞপ্তি জারির অর্থ কী? আর যদি সক্ষমতা থাকে, তাহলে সাতকানিয়ায় প্রশাসন নীরব কেন?একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ডিসির নির্দেশনা সবাই জানে। তারপরও প্রকাশ্যে লঙ্ঘন হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।একজন সচেতন নাগরিক বলেন, এভাবে নিয়ম ভাঙা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কেউ সরকারি সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেবে না।অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংকট ও বাড়তি লোডশেডিংয়ের সময়ে বাজারগুলো রাত পর্যন্ত খোলা থাকায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যও ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, একদিকে মানুষ লোডশেডিংয়ে কষ্ট পায়, অন্যদিকে মার্কেটে দিনরাত আলো জ্বলে। এটি সম্পূর্ণ বৈপরীত্য।উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে জেলার সব উপজেলা ও মহানগর এলাকায় শপিংমল, মার্কেট, দোকানপাট, বিলবোর্ডের বাতি এবং চলমান বা আয়োজিত মেলা সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।কিন্তু বাস্তবে সাতকানিয়ায় সেই নির্দেশনা কার্যকর না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের এই নীরবতা সাধারণ উদাসীনতা নয়, বরং রহস্যজনক।এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
