কক্সবাজার শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী বাঁকখালী নদী এখন দখল আর দূষণের চাপে মৃতপ্রায়। একসময় কস্তুরাঘাট হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চলত যাত্রীবাহী লঞ্চ ও পণ্যবাহী জাহাজ। সেই নদীপথ এখন কেবল স্মৃতি। অন্তত ৩০০ একর প্যারাবন ধ্বংস করে এবং নদী ভরাট করে সেখানে গড়ে উঠেছে শত শত ঘরবাড়ি, দোকানপাট আর নানা স্থাপনা।নুনিয়াছটা থেকে মাঝিরঘাট পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার জুড়ে নদী দখলের এই চিত্র আরও ভয়াবহ। বিগত এক দশকে গড়ে উঠেছে সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার আজ সোমবার (০১ সেপ্টেম্বর) থেকে উচ্ছেদ অভিযানে নামছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে এই অভিযান চালাবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র‍্যাব, কোস্ট গার্ড এমনকি সেনাবাহিনীও মাঠে থাকবে।ভূমি অফিস ও বিআইডব্লিউটিএ পৃথকভাবে দখলদারদের তালিকা করেছে। সহস্রাধিক দখলদারের মধ্যে অন্তত ৩৫০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন। এ তালিকায় শাসকদল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী, এমনকি এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কাশেমের নামও আছে। তবে রফিকুল হুদা চৌধুরী দাবি করেছেন, তিনি নদীর জমি দখল করেননি, বরং তার জমি পৈত্রিক।২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে হাইকোর্টের নির্দেশে জেলা প্রশাসন ৪ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে এবং ৩০০ একর প্যারাভূমি মুক্ত করে। কিন্তু গত ৪৫ দিনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগে একই জায়গায় ফের তৈরি হয়েছে নতুন স্থাপনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রশাসনের শিথিলতায় আবারও ঘরবাড়ি তোলার হিড়িক শুরু হয়।নদীর বুক জুড়ে বর্জ্যের পাহাড়ও গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন কক্সবাজারে উৎপন্ন ৯৭ টনের বেশি বর্জ্যের মধ্যে প্রায় ৭০ টন সরাসরি ফেলা হয় বাঁকখালী নদীতে। বাকিটা চলে যায় সাগরে। এর সঙ্গে নতুন নির্মিত সেতুর প্রভাব মিলিয়ে নদীর প্রবাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দেড় মাইল প্রস্থ নদী সঙ্কুচিত হয়ে কোথাও কোথাও দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০০ ফুটে।ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস)-এর চেয়ারম্যান মুজিবুল হক বলেন, সেতু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে নদীর মরণদশা নেমে এসেছে। এতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে।গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন আগামী চার মাসের মধ্যে সব দখলদার উচ্ছেদ করতে এবং ছয় মাসের মধ্যে বাঁকখালী নদীকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA) ঘোষণা করতে। একইসঙ্গে নদীর আরএস জরিপ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ, ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধার এবং নদী সংলগ্ন সব ইজারা বাতিলেরও নির্দেশ এসেছে। আদালত মামলাটিকে চলমান মামলা ঘোষণা করে প্রতিবছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলেরও আদেশ দিয়েছেন।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সম্প্রতি কক্সবাজার সার্কিট হাউসে সমন্বয় সভায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্রুততম সময়ে নদী দখলমুক্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে নদীর সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।এআই

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
সুনামগঞ্জ ৩ আসনে জমিয়ত প্রার্থী মুশতাক গাজীনগরী নিখোঁজ!
সুনামগঞ্জ ৩ আসনে জমিয়ত প্রার্থী মুশতাক গাজীনগরী নিখোঁজ!

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রত্যাশী ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলা শাখার Read more

পত্রিকা: ‘সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে, বিপরীতে মাদ্রাসায় ভর্তি বেড়েছে’
পত্রিকা: ‘সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে, বিপরীতে মাদ্রাসায় ভর্তি বেড়েছে’

জুলাই সনদ নিয়ে খবর তো থাকছেই, এছাড়া দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য খবর নিয়ে আজ বাংলাদেশের প্রধান পত্রিকাগুলো শিরোনাম করেছে।

প্রেমের টানে মালয়েশিয়ার তরুণী নওগাঁয়, বসলেন বিয়ের পিঁড়িতে
প্রেমের টানে মালয়েশিয়ার তরুণী নওগাঁয়, বসলেন বিয়ের পিঁড়িতে

তাদের দেশ ভিন্ন। ভাষাও আলাদা। বড় হয়েছেন পৃথক সংস্কৃতিতে। এমন অনেক অমিল থাকা সত্ত্বেও এক হয়েছেন ভালোবাসার টানে। প্রথমে পরিচয় Read more

সারাদেশে টানা ৫ দিন বজ্রবৃষ্টির আভাস
সারাদেশে টানা ৫ দিন বজ্রবৃষ্টির আভাস

ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগে আগামী ৫ দিন বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও শিলাবৃষ্টি ঝরতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার Read more

হতাশ শবনম ফারিয়া! বললেন ‘দেশের কাছে আর কোনো প্রত্যাশা নেই’
হতাশ শবনম ফারিয়া! বললেন ‘দেশের কাছে আর কোনো প্রত্যাশা নেই’

জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখলেও দেশ ও দেশের রাজনীতি নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। বুধবার Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন