জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির ঘটনায় চট্টগ্রাম নগরীতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় জামালখান প্রেসক্লাব এলাকা। বুধবার (২৮ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুটি বিপরীতমুখী ছাত্র সংগঠন, যার ফলে অন্তত ছয়জন আহত হন, এর মধ্যে একজন নারী নেত্রীও রয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত নেতার মুক্তির প্রতিবাদে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’ একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আহ্বান করে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে। একই সময়, জামায়াতপন্থী বলে অভিযোগ থাকা ‘এন্টি শাহবাগ মুভমেন্ট’ পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে সেখানে জড়ো হয়। শুরুতে উভয় পক্ষ স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। এক পর্যায়ে বাগবিতণ্ডা রূপ নেয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায়। ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি, ব্যানার ছিঁড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকাজুড়ে। পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সংঘর্ষে আহত এক নারীকে উদ্ধার করে পাশের একটি রিকশায় তুলছেন কয়েকজন। পরবর্তীতে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয় বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেত্রী পুস্পিতা নাথ হিসেবে।গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইদুল হক সময়ের কন্ঠস্বর-কে জানান, সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন সংগঠনের চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ধ্রুব বড়ুয়া, সেক্রেটারি একান্ত বিশ্বাস, অর্থ সম্পাদক সুদিপ্ত গুহ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠক রিশাদ আহমেদ, নগর ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি রিপা মজুমদার এবং সদস্য অর্পিতা নাথ। আহতদের সবাইকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারীদের মধ্যে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মীরাও ছিলেন। চেরাগি মোড় থেকে মিছিল নিয়ে আগত ‘এন্টি শাহবাগ মুভমেন্ট’-এর কর্মীদের মধ্য থেকে অন্তত দুজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানায়নি কর্তৃপক্ষ।ঘটনার সময় চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানার ওসি আব্দুল করিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি সাংবাদিকদের কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, শুরুতেই কঠোর হস্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলে এই সংঘর্ষ এড়ানো যেত।‘জুলাই ঐক্য চট্টগ্রাম’-এর প্রধান সমন্বয়কারী আবরার হাসান বলেন, একজন যুদ্ধাপরাধীর খালাসের প্রতিবাদে কয়েকজন বামপন্থী ছাত্রনেতা অবস্থান নিলে শাহবাগবিরোধী গোষ্ঠী পাল্টা অবস্থান নেয়। কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি—এটাই ছিল সময়ের অপেক্ষা।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র নেতা তওসিফ ইমরোজ বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে বিভক্ত সমাজ আজ আবারও মুখোমুখি। রাজনীতির নামে সহিংসতার এ সংস্কৃতি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ বার্তা বয়ে আনছে।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
