দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম লিপুর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের টাকা নেওয়ার পরও তা জমা না দেওয়ায় নাইম ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাইম ইসলাম ফরম ফিলাপ ও কেন্দ্র ফি বাবদ প্রায় ৩ হাজার টাকা প্রধান শিক্ষকের হাতে তুলে দেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, তার ফরমই পূরণ করা হয়নি। ফলে বোর্ড থেকে তার নামে কোনো এডমিট কার্ড ইস্যু হয়নি। পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগে বিষয়টি জানতে পেরে হতবাক হয়ে পড়ে ওই শিক্ষার্থী ও তার পরিবার।ভুক্তভোগী নাইম ইসলাম জানায়, সে পাকেরহাটে অবস্থিত ট্যালেন্ট সার্চ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা করলেও তার রেজিস্ট্রেশন ছিল চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। টেস্ট পরীক্ষার পর ফরম পূরণের জন্য তাকে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে যেতে বলা হয়। সে নির্দেশনা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের হাতে টাকা জমা দেয়। কিন্তু পরীক্ষার আগে গিয়ে জানতে পারে, তার ফরম ফিলাপই করা হয়নি।নাইমের ভাষায়, আমি অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি এই পরীক্ষার জন্য। সব প্রস্তুতি নিয়েও শুধু একটি ভুলের কারণে আমি পরীক্ষায় বসতে পারলাম না। এখন আমার পুরো একটা বছর নষ্ট হয়ে গেল। এর দায় কে নেবে?” তার এই প্রশ্ন যেন পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিই এক ধরনের আক্ষেপ ছুঁড়ে দেয়।এদিকে, ট্যালেন্ট সার্চ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের পরিচালক সাইদ ইসলাম বলেন, নাইম ইসলাম পূর্বে তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিল, তবে পরবর্তীতে সে বিদ্যালয় ত্যাগ করে। যেহেতু তার রেজিস্ট্রেশন চকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অধীনে ছিল, তাই ফরম ফিলাপের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। এডমিট কার্ড না পাওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে আগে জানানো হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম লিপু বলেন, “নাইম ইসলামের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার মনে ছিল না। পরে বিষয়টি জানার পর তার পরিবারকে ডেকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।” তবে তার এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। তাদের মতে, একজন প্রধান শিক্ষকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, একটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন অবহেলা মারাত্মক অপরাধের শামিল। শুধু টাকা ফেরত দিলেই দায় শেষ হয়ে যায় না—বরং এ ঘটনায় যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান সরকার জানান, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগে জানানো হলে হয়তো বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যেত।পুরো ঘটনাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতার অভাবকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। যেখানে একটি ভুলের কারণে একজন শিক্ষার্থীর পুরো বছর নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এখন সকলের দৃষ্টি প্রশাসনের তদন্তের দিকে। কারণ, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
