নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সোনারগাঁও কাজী ফজলুল হক উইমেন্স কলেজে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম ফিলাপসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ছাত্রী।জানা যায়, মরহুম কাজী ফজলুল হক নারী শিক্ষার উন্নয়ন, স্বল্প খরচে শিক্ষা প্রদান এবং মেধাবী ও স্বল্প আয়ের পরিবারের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে বর্তমানে সেই লক্ষ্য থেকে কলেজটি অনেকটাই বিচ্যুত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, কলেজটিতে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কোনো পরিচালনা কমিটি নেই। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। পদটি টিকিয়ে রাখতে একটি নিজস্ব শিক্ষক-শিক্ষিকা প্যানেল বা সমর্থক গোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক কলেজে কতটা সময় দিচ্ছেন—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কারণে তার অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে।শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজে মানসম্মত পাঠদান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। নেই উন্নতমানের ক্যান্টিন কিংবা পর্যাপ্ত যাতায়াত সুবিধা। এসব সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, একটি বিষয়ের পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে গিয়ে তাকে আর্থিক সমস্যার কথা জানানোর পরও অতিরিক্ত টাকা দিতে বলা হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুন মাহমুদ ও শিক্ষক মইনুল হক তাকে নতুন করে ভর্তি বাবদ ২ হাজার টাকা, মিলাদ খরচ, পরীক্ষা ফি, কলেজ উন্নয়ন ফি ও বিদ্যুৎ ফিসহ মোট ৬ হাজার ৮০০ টাকা দিতে বলেন।তবে রশিদে দেখা যায়, ফরম ফিলাপ ও সরকারি ফি বাবদ ১ হাজার ৫৫০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকি অর্থ আলাদা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।ওই শিক্ষার্থী বলেন, “আমি তো এই কলেজেরই ছাত্রী। তাহলে আমাকে আবার কেন নতুন করে ভর্তি ফি দিতে হবে?”এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমান বলেন, “যে বিষয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্বল, সে বিষয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে ফি নিতে পারে। তবে রেজিস্ট্রেশন ফি ছাড়া ভর্তি ফি নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।”ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর ফকির নুরুজ্জামান বলেন, “বোর্ড নির্ধারিত ফি ছাড়া অন্য কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”অভিযোগের বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুন মাহমুদ বলেন, “আগে তারা দুই বছরের জন্য ভর্তি ছিল। এখন তারা এই কলেজে নেই, তাই নতুন করে ভর্তি ফি নেওয়া হচ্ছে।”তবে এ বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি এবং পরে অফিসে এসে কথা বলার অনুরোধ করেন।পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
