কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।নিহত যুবকের নাম শাহজালাল ওরফে সাব্বির (২০)। তিনি উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মুগারচর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে। একই ঘটনায় আহত রফিকুল ইসলামের ছেলে জিহাদ (২২) এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ রাতে মুগারচর গ্রামে ‘আলী শাহ্ ভান্ডারী’ ওরশ মাহফিল চলাকালে কয়েকজন বখাটে স্থানীয় কিশোরী ও নারীদের উত্ত্যক্ত (ইভটিজিং) করে। সাব্বির ও জিহাদ এর প্রতিবাদ করলে বখাটেদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় রাধানগর ইউনিয়নের লক্ষণখোলা রাস্তার মোড়ে ওত পেতে থাকা একদল কিশোর গ্যাং সদস্য সাব্বির ও জিহাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সাব্বিরকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং সোমবার রাতে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।এ ঘটনায় গত ২৮ মার্চ আহত জিহাদের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মেঘনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় লক্ষণখোলা গ্রামের নাঈম (২০), বাবুল মিয়া (৪৮), জাহিদুল (১৯), কামাল মিয়া (৪৬), সজিব (২৩), লিল মিয়া (৫০) ও ফিরোজ মিয়া (৪৫)-সহ অজ্ঞাত আরও ৭–৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।সাব্বিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মেঘনা-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে ঘাতকদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মর্গে পাঠানো হয়েছে। ইতিপূর্বে দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় (৩০২ ধারা) রূপান্তরিত করার আবেদন করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
