গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বাড়িতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ সাতজনকে আটক করার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলেছে সেনাবাহিনী।শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে গাজীপুর মহানগরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ১৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. লুৎফর রহমান।গ্রেফতারকৃত মো. এনামুল হক মোল্লা (৫০) শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের মৃত আহাদ আলীর ছেলে। তিনি মক্কা নগরীর মেছপালা বিএনপির সভাপতি ও বরমী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।গ্রেফতার অন্যরা হলেন শওকত মীর (৪৫), জাহিদ মিয়া (৪০), মোস্তফা কামাল (৩২), সিদ্দিকুর রহমান (৩৪), বুলবুল মিয়া (৩৫) ও তোফাজ্জল হোসেন (৪৫)।ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান জানান, গত ৬ নভেম্বর ভোররাতে গাজীপুর আর্মি ক্যাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, পুলিশ ও র্যাবের প্রত্যক্ষ সহায়তায় শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় গাজীপুর জেলার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, তথা শ্রীপুর এলাকার ত্রাস, অবৈধ বালু উত্তোলনকারী ও ডাকাত দলের সর্দার এনামুল হক মোল্লাকে তার নিজ বাসার পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে তার আরও ছয়জন সহযোগীকেও যৌথ বাহিনী গ্রেফতার করে।অভিযান চলাকালে তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, দুইটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, চারটি ওয়াকিটকি সেট এবং দুইটি লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেলসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এনামুল হক মোল্লার বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় একাধিক ডাকাতি ও অস্ত্র মামলা চলমান রয়েছে এবং কিছু মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টও জারি করা হয়েছে।সেনা কর্মকর্তা আরও জানান, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, একটি মহল এনামুল হক মোল্লার গ্রেফতারের ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন খাতে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে।”তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময় ন্যায়ের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিপক্ষে; সেনাবাহিনী দেশের পক্ষে। যারা এ ব্যাপারে অপপ্রচার করছে বা অপপ্রচারের প্রশ্রয় দিচ্ছে, আমরা মনে করি তাদেরও কোনো না কোনোভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। সে বিষয়টিকেও আমরা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছি এবং প্রমাণ স্বাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”সেনা কর্মকর্তা আরও বলেন, “অভিযানের সময় আপনারা (সাংবাদিকরা) অনেকেই অপারেশনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন এবং জানেন যে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তার বাসা থেকে ব্যক্তিগত কিছু সরঞ্জামাদি হারানো গেছে বলে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এরূপ মিথ্যা অপবাদ ছড়ানোর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”আল-আমিন/এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
