সময়ের কণ্ঠস্বরে সংবাদ প্রকাশের পর আমতলীতে ‘আমরা আমতলীবাসী’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় ফুটপাত দখলে থাকা ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হয়েছে।গত ১ জুলাই ‘সময়ের কণ্ঠস্বর’-এ প্রকাশিত ‘মহাসড়কের ফুটপাত দখলে ঝোপঝাড়, ঝুঁকিতে পথচারীরা’ শিরোনামের সংবাদের পর অবশেষে সচেতন হয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। সংবাদ প্রকাশের পর আমতলী উপজেলার তরুণ সমাজ উদ্যোগ নেয় মহাসড়কের ফুটপাত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আগাছা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার অভিযানের।শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়কের ঘটখালী এলাকা থেকে শুরু হয় এ অভিযান। স্থানীয় সমাজসেবক মোমেন আকন-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং আমরা আমতলীবাসীসহ আমতলীর সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এ কার্যক্রম।প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের ফুটপাত থেকে আগাছা, ঝোপঝাড় ও বর্জ্য অপসারণ করা হয়। অভিযানটি শেষ হয় আমতলী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে। স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, এ অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে যতদিন না পুরো মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো নিরাপদ হয়।ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়ক দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশেষ করে ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু বরগুনার আমতলী অংশের প্রায় ৩৭ কিলোমিটার জুড়ে ফুটপাত আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে ছিল। এতে পথচারীদের মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হতো, যা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠেছিল।আমরা আমতলীবাসী সংগঠনের সভাপতি মোঃ রাব্বি ইসলাম বলেন, ‘পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিষ্কার রাখার উদ্যোগ নিয়েছি। যতদিন না মহাসড়ক সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়, আমাদের কার্যক্রম চলবে।’স্বেচ্ছাসেবক মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সবসময় সমাজের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আগাছা পরিষ্কার কর্মসূচি আমাদের তরুণ প্রজন্মকে সমাজসেবায় অনুপ্রাণিত করবে।’উদ্যোগের মূল উদ্যোক্তা মোমেন আকন বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। আমাদের এই উদ্যোগে দেশের অন্যান্য এলাকার তরুণরাও অনুপ্রাণিত হবে বলে আশা করি।’আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম কাওসার মাদবর বলেন, ‘ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়কের ৩৭ কিলোমিটার অংশে বহু দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। এটি কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের প্রধান প্রবেশপথ হওয়ায় ভবিষ্যতে ছয় লেনের সড়ক নির্মাণ সময়ের দাবি।’পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিক উল্যাহ বলেন, ‘তরুণরা যে কাজটি করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটি সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরুণ সমাজ যদি এভাবে এগিয়ে আসে, দেশ আরও এগিয়ে যাবে।’পটুয়াখালী–কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী অংশে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল ও ঝোপঝাড়ে ঢাকা ছিল। ‘সময়ের কণ্ঠস্বর’-এ সংবাদ প্রকাশের পর তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ হয় এবং তরুণদের উদ্যোগে এই মানবিক কর্মসূচির সূচনা হয়, যা এখন সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতায় এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
