শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে উপজেলা কার্যালয়ের চত্বরে প্রতিদিন ভোরের আলোয় আসেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে এসেছেন, কেউ পারিবারিক কলহ বা প্রবাসী পরিবারের জটিলতা নিয়ে। কেউ আবার সামাজিক ভাতা বা চিকিৎসা সহায়তা চাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্য একটাই—উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু আবদুল্লাহ খানের কাছে পৌঁছানো এবং দ্রুত সমাধান পাওয়া।৩৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা গত ১ সেপ্টেম্বর ভেদরগঞ্জে যোগদান করেছেন। যোগদানের পর থেকেই সরকারি-বেসরকারি কার্যক্রমে তিনি নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, তাঁর উপস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি কর্মকাণ্ডে ফিরে এসেছে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। জনভোগান্তি কমে বেড়েছে সেবার মানও।জানা গেছে, উপজেলায় ইউএনও আবু আবদুল্লাহ খান জনমুখী সেবার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছেন। সাপ্তাহিক গণশুনানির পাশাপাশি মানুষ যেসব লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।প্রশাসনের সূত্র জানাচ্ছে, গণশুনানিতে যেসব অভিযোগ সরাসরি জানানো সম্ভব হয় না, সেগুলোরই বেশিরভাগ এখন লিখিতভাবে আসে। বিশেষ করে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগ। প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও এমন অভিযোগের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এছাড়া চিকিৎসা সহায়তা, সামাজিক ভাতা, পারিবারিক কলহ, বাল্যবিবাহ ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগও নিয়মিত পাওয়া যায়।এসব অভিযোগের উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরেজমিন তদন্ত করে ইউএনওর নির্দেশে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জানা গেছে, গণশুনানির পাশাপাশি এ কার্যক্রম প্রতি বুধবার নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ সরাসরি প্রশাসনের কাছে তাদের সমস্যা জানাতে পারছেন এবং দ্রুত প্রতিকার পাচ্ছেন। বর্তমানে উপজেলায় কোনো জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রশাসনের এই উদ্যোগে জনগণ উপকৃত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।জানতে চাইলে সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ভেদরগঞ্জ ইউএনও মো. আবু আবদুল্লাহ খান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘মানুষ জমিজমা থেকে শুরু করে নানাবিধ সমস্যা নিয়ে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করে থাকেন। আমি চেষ্টা করি যেগুলো আমার এখতিয়ারাধীন, সেগুলোর ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি দিতে। এতে মানুষ বাস্তব প্রতিকার পাচ্ছেন।’তিনি আরও বলেন, ‘গণশুনানি তো থাকেই, তবে অনেকেই সরাসরি বলতে পারেন না। তাই লিখিতভাবে যেসব অভিযোগ আসে, সেগুলোর বক্তব্য ও প্রমাণপত্র যাচাই করে নিষ্পত্তি করি। বিশেষ করে জায়গা-জমি সংক্রান্ত অভিযোগ বেশি আসে। যেহেতু এখানে প্রবাসী মানুষের সংখ্যা বেশি, তাদের বিষয়েও আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিই। তাছাড়া কেউ চিকিৎসা ব্যয়ে সহায়তা চান, কেউ ভাতার আবেদন করেন, আবার কেউ পারিবারিক বা সামাজিক সমস্যার প্রতিকার চান। আমরা বিষয়গুলো শুনে প্রয়োজনীয় দপ্তরে প্রেরণ করি বা সরাসরি ব্যবস্থা নেই। গত কয়েক সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
