বাবা-মা নিজেদের ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেও পুত্রবধূকে ওই বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট।কেন পুত্রবধূকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া যায় না, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আদালত। আদালত জানায়, বিয়ের পর যে ঘরে স্ত্রী থাকেন, সেটিই তার যৌথ বসতবাড়ি হিসেবে আইনগতভাবে সুরক্ষিত থাকবে।সোমবার (২০ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।দিল্লি হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানায়, কোনও নারী বিয়ের পরে যে বাড়িতে শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন, সেখানেই বসবাস করা তার অধিকার। পারিবারিত সহিংসতা আইন অনুসারে, ওই বাড়িটি বধূর ‘শেয়ারড হাউসহোল্ড’ বলে বিবেচিত হয়। তাই শ্বশুর-শাশুড়ি নিজেদের বাড়ি থেকে সন্তানকে বের করে দিলেও পুত্রবধূকে সেই বাড়ি থেকে বের করতে পারেন না।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে এই মামলা চলছে এক বধূর। ২০১০ সালে তার বিয়ে হয়। এরপর থেকে শ্বশুরবাড়িতেই বাকিদের সঙ্গে থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি।কিন্তু বিয়ের এক বছর পর থেকে বিভিন্ন অশান্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে নিজেদের ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বাবা-মা। ওই সময়ে তাদের সন্তান এবং পুত্রবধূ একটি ভাড়া বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। পরে ওই পুত্রবধূ আদালতে দাবি করেন, তাকে জোর করে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি তার জিনিসপত্রও বাড়ির বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।প্রথমে পারিবারিক আদালতে মামলাটি চলছিল। পরে সেই মামলা গড়ায় দিল্লি হাইকোর্টে। শাশুড়ির দাবি, ওই বাড়িটি তার প্রয়াত স্বামীর। তাই সেখানে থাকতে পারবেন না পুত্র বা পুত্রবধূ।বিচারপতি সঞ্জীব নারুলার বেঞ্চে সম্প্রতি ওই মামলার শুনানি ছিল। সেখানে শাশুড়ির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ওই বাড়িতে থাকার অধিকার রয়েছে স্ত্রীর। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া চাইলেই তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া যাবে না।এমনকি ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া মানেই পুত্রবধূকেও বের করে দেওয়া যায় না বলেও জানিয়েছেন বিচারক। এমআর-২
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
