ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম শব্দের অর্থই হচ্ছে শান্তি; শান্তি এর মধ্যেই রয়েছে। তবে সমাজের কিছু মানুষের ব্যবহার এর চিত্র বদলে দেয়। যেমন একজন মুসলিম মারা গেলে সাধারণভাবেই কবর দেওয়া হয়। তবে নানা বিরোধের জন্য এখানেও বিরোধ সৃষ্টি করি আমরা মুসলমানরা। এমন ঘটনা প্রায় সময়েই আমাদের চোখে ধরা পড়ে।মহামারি ও দুর্যোগের মতো পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ একসঙ্গে মারা গেলে তাদের গণকবর দেওয়া হয়। এ ছাড়া কখনো দেখা যায়, কবর পুরোনো হয়ে গেলে তা খনন করে ওই কবরেই নতুন লাশ দাফন করা হয়। এভাবে একাধিক লাশ এক কবরে দাফন করা এবং পুরোনো কবরের ওপর নতুন কবর দেওয়া জায়েজ আছে কি?ইসলামি আইনের একটি নীতি হলো, প্রতিটি লাশকে ভিন্ন ভিন্নভাবে কবর দেওয়া। প্রয়োজন না হলে এক কবরে অধিক লোক কবর দেওয়া ঠিক নয়। কিন্তু জায়গার সংকট, লাশের সংখ্যা অতিমাত্রায় বেশি বা যুদ্ধ ও মহামারির মতো পরিস্থিতিতে এক কবরে একাধিক লাশ দাফন করা বৈধ আছে। নবী করিম (সা.) উহুদ যুদ্ধের সময় এক কবরে একাধিক শহীদকে দাফন করেছিলেন। (সহিহ্ বুখারি: ১৩৪৩)।তবে এ ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, লাশগুলো পাশাপাশি রেখে প্রতিটি লাশ মাটি দিয়ে অন্যটি থেকে আড়াল করে দিতে হবে। একটি লাশের ওপর আরেকটি লাশ রাখবে না।পুরোনো কবরের ওপর নতুন কবর দেওয়ার বিধান হলো, কবরস্থানে নতুন কবরের জন্য খালি জায়গা না থাকলে সবচেয়ে পুরোনো যে কবরে মৃতদেহ মাটি হয়ে যাওয়ার প্রবল ধারণা হবে, তাতে কবর দেওয়া যাবে। আর নতুন কবরের চিহ্ন থাকলে এবং লাশ মাটি হয়ে যাওয়ার প্রবল ধারণা না হলে সেখানে বিশেষ ওজর ছাড়া নতুন করে কবর দেওয়া যাবে না।এ ছাড়া কবরস্থান নতুন মাটি দিয়ে সংস্কার করা হলে এবং নতুন-পুরোনো কবর পৃথক করা না গেলে, সে ক্ষেত্রে যেখানে নতুন কবর না থাকার সম্ভাবনা বেশি, সেখানে কবর খোঁড়া উচিত। কবর খনন করতে গিয়ে আগের মৃতদেহের হাড্ডি ইত্যাদি কিছু পাওয়া গেলে সেগুলো একত্র করে এক পাশে বা ভিন্ন স্থানে দাফন করে দিতে হবে।স্বাভাবিকভাবে একটি কবরে একাধিক ব্যক্তিকে দাফন অনুচিৎ। তবে স্থান সংকুলান না হলে বা মহামারির কারণে একাধিক কবর খনন করার মত লোক পাওয়া না গেলে কেবল তখনই এক কবরে একাধিক ব্যক্তিকে দাফন করা যাবে (নববী, আল-মাজমূ‘ ৫/২৪৭; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ৫/৩৬৯)।ওহুদ যুদ্ধের দিন একাধিক শহীদকে একই কবরে দাফন করা হয়েছিল (দ্র. সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) ৩৮৫ পৃ.)।হিশাম ইবনু আমের (রাঃ) বলেন, আমরা ওহুদ যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের পক্ষে প্রত্যেক শহীদের জন্য পৃথক পৃথক কবর খনন করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমরা কবর খনন কর এবং কবরকে গভীর কর এবং দু’জন বা ৩ জনকে এক এক কবরে দাফন কর। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কাকে প্রথমে রাখব? তিনি বললেন, যে কুরআন বেশি জানে তাকে প্রথমে রাখ। রাবী বলেন, এভাবে আমার পিতা একই কবরের তিনজনের অন্যতম ছিলেন’ (নাসাঈ হা/২০১০; ইবনু মাজাহ হা/১৫৬০; মিশকাত হা/১৭০৩)।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
