কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের বড় কবরস্থানের সড়কটি যেন একটি মরণ ফাঁদ। যার ফলে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কবরস্থানের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে এ সড়ক। এছাড়া ঢেমুশিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদও এ বড় কবরস্থানের সাথে সংযুক্ত। ফলে হাজার হাজার মুসল্লী এ মসজিদে নামাজ আদায় করতে যায়।ঢেমুশিয়া বড় কবরস্থানের লাশ বা মরদেহ নেওয়ার অন্যতম প্রধান সড়ক হচ্ছে। কিন্তু এ সড়কটির প্রায় পুরো অংশ ছোট, মাঝারি ও বড় গর্তে ভরপুর। ফলে কবরস্থানে এ সড়ক দিয়ে লাশ বা মরদেহ নেওয়া যায় না। তাই মানুষকে বড় কবরস্থানে মরদেহ নিতে হলে বিভিন্ন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হয়।এছাড়া এ সড়ক দিয়ে হাজার হাজার পথচারী যাতায়াত করে থাকে। সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় এখন কোন ধরনের যানবাহন যাতায়াত করে না। এ সড়ক দিয়ে নুরানী মাদ্রাসা ও বালিকা মাদ্রাসার অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী যাতায়াত করে থাকে, কিন্তু সে সড়কটি এখন পথচারীদের দুর্ঘটনার খোরাক হিসেবে কাজ করে।এ সড়ক আয়তন প্রায় ১.৫ কিলোমিটার। সড়কের পুরো অংশ বিভিন্ন গর্তে ভরপুর। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ এ সড়কটি নির্মাণ ও মেরামত করেছিলেন। এরপর থেকে এ সড়কে আর উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। অর্থাৎ এ সড়কটি বিগত ২০ বছর উন্নয়নের ছোয়া থেকে বঞ্চিত ছিল।ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ সড়কটি এখন একটি মরণ ফাঁদ। এ সড়ক দিয়ে অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করে থাকে। মানুষের মৃত্যুর পরে স্থান হচ্ছে কবরস্থান। কিন্তু কবরস্থানের সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে যে, লাশ নেওয়া দূরে কথা, মানুষও হাঁটতে পারে না। এমতাবস্থায় সরকার থেকে এ সড়কটি সংস্কার বা মেরামত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তাই সরকারের প্রতি অনুরোধ করব দ্রুত সময়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।’ঢেমুশিয়া বড় কবরস্থান এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন রিয়াদ বলেন, ‘আমি একজন চাকুরীজীবী। ছুটির দিনে নিজ এলাকায় আসলে আমার মনটা অনেক ছোট হয়ে যায়। কেননা, রাস্তার অবস্থা দেখলে মনে হয় আমরা চাষের জমির উপর বসবাস করি। প্রায় ২০ বছর এই সড়কে উন্নয়নের ছোয়া লাগে নি। এছাড়া এ রাস্তা দিয়ে কোন অসুস্থ রোগী নিতে অনেক কষ্ট হয়, কারণ এ রাস্তা দিয়ে কোন পরিবহন চলাচল করে না। যেখানে একটা বড় কবরস্থান আছে, সেখানে রাস্তার এ অবস্থা কোনদিন মেনে নেওয়া যায় না। তাই আমি সরকারের প্রতি অনুরোধ করব দ্রুত সময়ে পদক্ষেপ নিয়ে মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য।’চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ‘সড়কটির ব্যাপারে আমাদের নজরে এসেছে। খুব দ্রুত সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
