ভালোবাসার টানাপোড়েন যেন নাটকীয় দৃশ্যের জন্ম দিল যশোরে। এক নারীকে ঘিরে দুই স্বামীর আবেগঘন টানাহ্যাঁচড়ার পর অবশেষে আদালত তাদের দুজনকেই জামিন দিয়েছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শান্তনু কুমার মণ্ডল শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।ঘটনার সূচনা ফরিদপুরের কানাইপুরের বাসিন্দা বিকাশ অধিকারী ও তার স্ত্রী সীমাকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘ ছত্রিশ বছরের সংসার, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ছিল তাদের সংসার জীবন। কিন্তু হৃদয়ের অদৃশ্য টানে সীমা নতুন করে প্রেমে পড়েন ফরিদপুর সদরের পলাশ কুন্ডুর। সীমা-পলাশের সেই সম্পর্ক একসময় তাদের ভারত পর্যন্ত নিয়ে যায়, যেখানে তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন।ভালোবাসার এই অদ্ভুত জটিলতা প্রকাশ্যে আসে মঙ্গলবার। যশোরের এক হোটেল থেকে সীমা ও তার দুই স্বামীকে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে। আর সেখানেই সীমাকে ঘিরে বিকাশ ও পলাশের মধ্যে ঘটে যায় হাতাহাতি। প্রেম আর অভিমান মিশ্রিত সেই মুহূর্ত যেন সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানায়।শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত হয় আইনের ছোঁয়ায়। পুলিশ ১৫১ ধারায় বিকাশ ও পলাশকে আটক দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। বিচারক প্রথমে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু বুধবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত উভয়ের জামিন মঞ্জুর করেন।ভালোবাসা, অভিমান আর সম্পর্কের টানাপোড়েনে এই ঘটনাটি এখন যশোরের মানুষের মুখে মুখে। কে কাকে পাবে সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো ঝুলে আছে সীমার হৃদয়ের দরজায়।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ স্বামী দাবিদার বিকাশ অধিকারী ও পলাশ কুমার কুন্ডুকে আদালতে সোপর্দ করলেও সীমা হালদারকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
