দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানায় ভরাট হয়ে পড়া নেত্রকোনা ধলাই নদীর পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে পৌরসভা। নদীকে কচুরিপানা মুক্ত করতে পৌর প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছেন নদী পাড়ের মানুষসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা। খুশি স্থানীয়রা।শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ধলাই নদীতে কচুরিপানা পরিষ্কারের উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। পরবর্তীতে তিনি নিজেও কয়েক ঘণ্টা পানিতে নেমে এই পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত ছিলেন।জেলার পূর্বধলার ধলীরকান্দা থেকে উৎপত্তি হওয়া ধলাই, যার পূর্ব নাম ছিলো ধুলাই, এই নদীটি জেলার ঐতিহ্যবাহী মগড়া নদীতে গিয়ে মিশেছে। ৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও প্রায় শত মিটার প্রস্থের নদীটি গেল দেড় যুগ ধরে নেত্রকোনা শহরের মইনপুর থেকে রাজুরবাজার পর্যন্ত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে ছিলো।শহরের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার জুড়ে কচুরিপানায় ভরাট থাকায় দৈনন্দিন কাজ, সাঁতার কাটাসহ স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসেনি এই নদীটি। বৃষ্টি বা বর্ষায় জলাবদ্ধতা হলেও নদীর প্রবাহ এবং ধারণ ক্ষমতা না থাকায় আর্থিবাদের বদলে অভিশাপ হয়েছিলো।এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে বছর বছর আশ্বাসের পর এবার উদ্যোগ নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এরপর বিভিন্ন সংগঠনসহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের যুক্ত করায় অবশেষে মুক্ত হচ্ছে নদীটি। তিন কিলোমিটার পৌরসভার ভেতরের অংশ পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যে দেড় কিলোমিটার নদী পরিষ্কার করা হয়েছে।এদিকে নদীকে এবার জীবিত রাখতে পরিষ্কারের পর নৌকা বাইচের মাধ্যমে সবাইকে উজ্জীবিত করা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।স্থানীয়রা জানান, দশ বছর আগেও এই নদীতে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যেত, কিন্তু কচুরিপানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কয়েক বছর যাবত কোনো ধরনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। আশা করা যাচ্ছে, এবার পরিষ্কার হলে আবার নতুন করে নদীতে মাছ পাওয়া যাবে।এদিকে ইতিমধ্যে পরিষ্কার করা দেড় কিলোমিটারের মধ্যে স্থানীয় শিশুদের নদীতে সাঁতারাতে দেখা গেছে। বাচ্চারা বলছিল, আগে কচুরিপানা থাকায় তারা কখনো নদীতে নামতে পারেনি, কিন্তু এবার পরিষ্কার হওয়ায় তারা নদীতে নামার সুযোগ পাচ্ছে।নেত্রকোনার পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সরদার জানান, নদীটি পরিষ্কার করা হচ্ছে নদীর প্রাণ ফেরাতে। পরবর্তীতে নদীর রক্ষা সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন আপাতত পৌরসভা থেকে পরিষ্কারের উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, আমরা আপাতত শহরের ভিতরে যে তিন কিলোমিটার নদী আছে, সবটি পরিষ্কার রূপে নিয়েছি। পরিষ্কার হওয়ার পর নদীটি পরিষ্কারের আনন্দ উপভোগ করার জন্যই নদীতে একটি নৌকা বাইচের আয়োজন করার কথা ভাবছি।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
