যাঁর নামটাই ক্রিকেটে মানদণ্ড। ব্যাট হাতে যিনি ছিলেন এক প্রজন্মের আতঙ্ক, আর পরবর্তী প্রজন্মের স্বপ্নের প্রতীক। সেই স্যার ডন ব্রডম্যানের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯০৮ সালের এই দিনে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ছোট্ট শহর কুটামুণ্ডিতে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই দারুণ প্রতিভাবান ছিলেন ব্রড ম্যান। তার আসল নাম ডোনাল্ড জর্জ ব্র্যাডম্যান। পরবর্তীতে তিনি পরিচিত হন ‘স্যার ডন ব্রডম্যান’ নামে। আশ্চর্যের বিষয় মাঠে ইতিহাস গড়া এই ক্রিকেটারের শুরু হয়েছিল ঘরের উঠোন থেকে। একটি স্টাম্প, একটি পুরনো গলফ বল আর বাড়ির পানির ট্যাঙ্ক- এই তিনটিই ছিল তাঁর ‘প্রথম কোচ’। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেয়ালে বল ছুঁড়ে সেটিকে স্টাম্প দিয়ে আঘাত করতেন ব্র্যাডম্যান। এই অদ্ভুত প্র্যাকটিসই পরবর্তীতে তার ব্যাটিং দক্ষতায় অতিমানবীয় রূপ দেয়। ক্রিকেটে শত শত রেকর্ডের মালিক টেনিসেও ছিলেন দারুণ প্রতিভাবান। ১৯২০-এর দশকে টেনিস খেলতেই দুই বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে দূরে থেকেছিলেন। পরে আবার ফিরে আসেন ক্রিকেটে। স্থানীয় ক্লাব বোরালের হয়ে ৩২০ রানের ইনিংস সহ একের পর এক বিশাল স্কোর করে নজর কাড়েন নির্বাচকদের।১৯২৬ সালে সিডনিতে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে ট্রায়ালের ডাক পান ব্র্যাডম্যান। ঠিক সেই সময় অফিসের বস বললেন, ‘এক সপ্তাহ ছুটি দিচ্ছি, কিন্তু খেলতে হবে শুধু এক খেলা। টেনিস নাকি ক্রিকেট?’ ব্র্যাডম্যান বেছে নিলেন ক্রিকেট। আর সেই একটি সিদ্ধান্ত বদলে দিল ক্রিকেটের ইতিহাস।মাত্র ২০ বছর বয়সে ১৯২৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে টেস্ট অভিষেক হয় ব্র্যাডম্যানের। এরপর তিনি ইতিহাস লিখেছেন নিজের হাতে। ১৯৩০ সালে ইংল্যান্ড সফরে ৩৩৪ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস—যা তখনকার টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা।১৯৩২-৩৩ ‘এশেজ’ সিরিজে ব্র্যাডম্যানের একচ্ছত্র আধিপত্য ঠেকাতেই ইংল্যান্ড বাধ্য হয় ‘বডিলাইন’ নামের বিতর্কিত কৌশল প্রয়োগ করতে। শরীর লক্ষ্য করে বল করে ব্যাটিং-দানবকে থামানোর চেষ্টা। কিন্তু ব্র্যাডম্যানকে থামায় কার সাধ্য!। ৫৬.৫৭ গড়ে রান করে ঐ সিরিজে প্রমাণ করেন প্রতিভার কাছে কৌশল শিশুমাত্র। ক্যারিয়ারে ৫২টি টেস্ট খেলেছেন ব্র্যাডম্যান। যেখানে ৯৯.৯৪ গড়ে তিনি করেছেন ৬৯৯৬ রান। মাত্র ৪ রান করলেই গড় হতো ১০০, কিন্তু শেষ ইনিংসে শূন্য রানে আউট হন ইংল্যান্ডের এরিক হলিসের বলে। সেই মুহূর্তটি ক্রিকেট ইতিহাসে এক অপূর্ণতাজনিত দুঃখের প্রতীক।১৯৪৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও, ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনোই ছিন্ন হয়নি। প্রশাসক, পরামর্শক ও ভাবনায় তিনি ছিলেন ক্রিকেটের পরম অভিভাবক। ১৯৭০ সালে তাঁকে নাইটহুড দিয়ে সম্মানিত করা হয়—তাঁর নামের আগে যুক্ত হয় ‘স্যার’।২০০১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ৯২ বছর বয়সে পৃথিবীকে বিদায় জানান স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। কিন্তু ক্রিকেটে তাঁর ছাপ এতটাই গভীর যে, আজও তার নাম উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধা ও বিস্ময়ে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
