বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কম্বাইন্ড (বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজব্যান্ড্রি) ডিগ্রির পক্ষে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব, বিপথগামী ট্যাগিং এবং একাডেমিক কাউন্সিল দিতে তালবাহানার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড হাতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।এ সময় আন্দোলনকারীরা প্রশাসনকে হুশিয়ারি দিয়ে জানান, ‘আগামীকাল যদি একাডেমিক কাউন্সিল না দেওয়া হয় তাহলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া দুই অনুষদের তালা আর খোলা হবে না।’কর্মসূচীতে শিক্ষার্থীরা ‘তুমি কে আমি কে, ফ্যাসিস্ট ফ্যাসিস্ট, কে বলেছে কে বলেছে, শিক্ষক শিক্ষক’, ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম স্বৈরাচার’, ‘উই ওয়ান্ট কম্বাইন্ড, কম্বাইন্ড’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।উল্লেখ্য, প্রায় এক মাস যাবৎ শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। এবার সেই আন্দোলনের সঙ্গে ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরাও যুক্ত হয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে তাদের অনুষদের তিনটি ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান জানান, ‘এই আন্দোলন শুধু গত ৩০ দিন ধরে চলছে না, কয়েক বছর আগেই শুরু হয়েছিল। প্রথমবার আমরা একাই এই ডিগ্রির জন্য আন্দোলনে নেমেছিলাম। এখন দুই অনুষদের শিক্ষার্থীরাই সমর্থন দিচ্ছে। অনলাইনে ভোটের পর সুপারিশ কমিটির একাডেমিক কাউন্সিল গঠনের কথা ছিল, কিন্তু তারা তা করেনি। এজন্য গতকাল আমরা ভেটেরিনারি অনুষদে তালা দিয়েছি। যতদিন না পর্যন্ত একাডেমিক কাউন্সিল হবে, ততদিন এটি বন্ধ থাকবে। বেশি তালবাহানা করলে পুরো অনুষদ অচল করে দেওয়া হবে।’পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থী সিয়াম জানান, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। অথচ আমাদের আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ট্যাগিং করা হচ্ছে। এমনকি আন্দোলন ভাঙার জন্য শিক্ষার্থীদের উসকানি দেওয়া হচ্ছে। তবে যাই হোক, আমরা আন্দোলন চলমান রাখব।’পশুপালন অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ জানান, ‘শিক্ষকরা আমাদের ফ্যাসিস্ট ও বিপথগামী ট্যাগ দিচ্ছেন। অথচ আমরা কোনো দলবাজ না, সাধারণ শিক্ষার্থী। পেশাগত বৈষম্য দূর করার জন্য কম্বাইন্ড ডিগ্রি দিতেই হবে।’এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক দিতে হলে নোটিশ দিতে হয় কমপক্ষে ৭ দিন আগে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আমরা এখনো হাতে পাইনি, তাই অপেক্ষা করছি রিপোর্টের জন্য। অবশ্যই শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।’উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমাদের কমিটি কাজ করছে। কমিটির সদস্যরা রাত দিন অনেক পরিশ্রম করছে, ছাত্রদের বিষয়টি বোঝার জন্য আমি বলেছি, তোমরা ধৈর্যের সাথে অপেক্ষা কর। কমিটির সদস্যরা তাদের ক্লাস-পরীক্ষার পাশাপাশি ৬৪ বছরের সমস্যা সমাধানের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে । কমিটি পরামর্শ দিলে আমরা দেখব কি করা যায়। সবার সাথে বসে আমরা তাদের সুপারিশগুলোকে আমলে নিয়ে যা করা যায় অবশ্যই সেটা করব। এটি প্রক্রিয়াধীন কাজ খুব বেশি তাড়াহুড়ো করলে একটা জিনিস সুন্দর হয় না।’এর আগে, কম্বাইন্ড ডিগ্রির সমাধানের লক্ষ্যে গত ১২ আগস্ট একটি সুপারিশ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ধাপে ধাপে পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে শিক্ষার্থীদের মতামত নিতে তাদের নিজস্ব ইআরপি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনলাইনে ভোটগ্রহণের আয়োজন করা হয়। যেখানে ভেটেরিনারি অনুষদের প্রথম বর্ষ থেকে পঞ্চম বর্ষ পর্যন্ত এবং পশুপালন অনুষদের প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ভোট দেন। দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে দেখা যায়, পশুপালন অনুষদের ৯০ শতাংশ এবং ভেটেরিনারি অনুষদের ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী কম্বাইন্ড ডিগ্রির পক্ষে মত দেন।কম্বাইন্ড ডিগ্রির বিষয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাশেম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কেবল নিজেদের চাকরির কথা ভাবছে, অথচ আমরা জাতীয় স্বার্থে চিন্তা করছি । ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন করে অন্যায়ভাবে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালু করা হয়েছে। যেখানে ৭০ শতাংশ পশুচিকিৎসা ও ৩০ শতাংশ পশু ব্যবস্থাপনা পড়ানো হয়। বিশেষায়নের এই যুগে অসম্পূর্ণ এ ডিগ্রি প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।’পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন বলেন, ‘ডিগ্রি পরিবর্তন বা অনৈতিক কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তা মেনে নেয়া হবেনা। প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেয়া হবে। দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে এনিমেল হাজবেন্ড্রি ডিগ্রিধারীদের চাকরিক্ষেত্র প্রসারিত করতে আমরা চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীরা অতিসত্বর ক্লাস পরীক্ষায় ফিরবেন বলে আশা করি।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
