চট্টগ্রামের চন্দনাইশের পাহাড় ও খাল বেষ্টিত দূর্গম ধোপাছড়ি ইউনিয়নের ১০০ মিটার দীর্ঘ ও ৭ ফুট প্রস্থের কাঠের সেতুটি বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকালে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভেঙে পড়েছিল। সেতু ভেঙে দ্বিতীয়বারের মত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দুই মাসের বেশি সময় ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছে কয়েক হাজার মানুষ। সেতু ভেঙে তাদের জীবন যাত্রায় যোগ হয়েছে জোড়াতালি, এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর।স্থানীয় বাসিন্দা ওসমান চৌধুরী জানান, ইউনিয়নের ১ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং বান্দরবান সংযোগ সড়কে ধোপাছড়ি খালের ওপর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সড়ক পথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সেতুটি ভেঙে ঐদিন শিক্ষার্থীরা আটকে পড়ে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন।ওই এলাকার শিক্ষার্থী সালমা, জয়নাব, খদিজা জানান, সেতু থাকলে বিনা খরচে সহজে যাতায়াত করা যেত। তবে এখন নৌকায় ভিজে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে খরচ করে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয়। শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া স্থানীয়রা আরো পিছিয়ে পড়বে।স্থানীয় বাসিন্দা দিদারুল আলম, সিরাজুল ইসলাম, আবুশ বশর অনেকটা আক্ষেপের সুরে বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরেও ভৌগোলিক কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। অনেক চেষ্টার পর একটি কাঠের সেতু হলেও সেটিও ভেঙে পড়েছে। এতে এ যেন মরার ওপর খরার ঘা। আমরা এতটা পিছিয়ে যে ইউনিয়নে মাত্র একটি বাজার, একটি হাসপাতাল, তাও সড়ক পথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন। কাদা আর পানির ভিড়ে নৌকা করে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে যেতে হচ্ছে।ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ৬ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে পুলিশ ফাঁড়ি, ইউনিয়নের একমাত্র বাজার, উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাসপাতাল, মসজিদ ও মাদ্রাসা।ধোপাছড়ি বাজারে ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর ব্যবসায়ীদের বিক্রি অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। শিগগির সংস্কার না হলে পণ্যের পরিবহন ব্যয়ও বাড়বে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মজিবুল হক খোকা জানান, বাজারে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। রোগীর ভোগান্তি অকল্পনীয়, সিএনজি অটোরিকশার চালকেরা বিপাকে। ছাত্র-ছাত্রীরা পিছিয়ে পড়বে।অন্য ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোজাম্মেল হক বলেন, ইউনিয়নের একমাত্র বাজার ও হাসপাতাল, পুলিশ ফাঁড়ি ৬ নম্বর ওয়ার্ডে হওয়ার দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মো. রাজিব হোসেন বলেন, ধোপাছড়ি খালের ওপর নির্মিত কাঠের সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর এটি মেরামতের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এর সাথে কথা বলেছি। নতুন অর্থ বছরে বরাদ্দ পেলে এটি মেরামত করা হবে। যেহেতু খালটিতে পানির তীব্র স্রোত বহমান, সেহেতু বর্ষা মৌসুমে এটি মেরামত করা খুবই কঠিন হয়ে যাবে। পানি কমলে এটি মেরামত করে চলাচল উপযোগী করা হবে। আপাতত আগের মতো নৌকায় মানুষ পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে। স্থায়ী সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডির পর মন্ত্রণালয় থেকে বড় অনুদান পেলে উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ দেয়া যায় কিনা তা দেখবেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।ধোপাছড়ি খালের ওপর পাকা সেতু নির্মাণ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বান্দরবান সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ধোপাছড়ি ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার একটি ইউনিয়ন হলেও ধোপাছড়ি খালের ওই অংশটি বান্দরবান সড়ক বিভাগের আওতাধীন হওয়ায় চট্টগ্রাম জোনের সেতু প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। ধোপাছড়ি খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর একনেকে পাস হলে দরপত্র আহ্বান করে সেতু নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা যাবে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
