চীনের বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজে বিশ্বকে শান্তি ও সংলাপের পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ সময় চীনের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার (গ৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।কুচকাওয়াজে শি জিনপিং সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এখন শান্তি নাকি যুদ্ধ—এই মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে জাপানের পরাজয়ের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও উপস্থিত ছিলেন।তবে পশ্চিমা কোনও দেশের নেতা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। শি জিনপিংয়ের পাশাপাশি অতিথি হিসেবে কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমাদের চোখে একঘরে হয়ে পড়া পুতিন ও পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য সমালোচিত কিম।চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, “আজ মানবজাতি শান্তি নাকি যুদ্ধ, সংলাপ নাকি সংঘাত, পারস্পরিক লাভ নাকি শূন্য-সমীকরণের মধ্যে একটির পথ বেছে নেবে। চীনা জনগণ ইতিহাসের সঠিক পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।”এর আগে খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে শি জিনপিং সেনাদের সালাম গ্রহণ করেন এবং মিসাইল, ট্যাংক, ড্রোনসহ আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পরিদর্শন করেন। আকাশে হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানের মহড়া চলে। ৭০ মিনিটের এই শোভাযাত্রার শেষে আকাশে উড়ানো হয় ৮০ হাজার শান্তির কবুতর ও রঙিন বেলুন।মাও সেতুং-এর ধাঁচে তৈরি পোশাক পরে প্রেসিডেন্ট জিনপিং লাল কার্পেটে ২০টিরও বেশি দেশের নেতাদের স্বাগত জানান। এর মধ্যে ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোও। নিজের দেশে ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যেও হঠাৎ অনুষ্ঠানে হাজির হন তিনি।মঞ্চে শি জিনপিংয়ের দুই পাশে বসেন পুতিন ও কিম। একাধিকবার তাদের সঙ্গে আলাপও করেন তিনি।শি জিনপিং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে চীনের “মহান পুনর্জাগরণের বাঁক” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জাপানি আগ্রাসন থেকে উঠে এসে চীন এখন অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক শক্তি। তিনি আবারও ‘শক্তির রাজনীতি ও আধিপত্যবাদ’-এর বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে পরোক্ষভাবে তিনি এই ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজন শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং ঘরে-বাইরে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলার কৌশলও। একই সঙ্গে এটি রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনারও ইঙ্গিত বহন করে।এমআর-২
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
