চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের নদী-ছড়ার জন্য পরিচিত সাতকানিয়া উপজেলা এখন নতুন এক সংকটে পড়েছে। এক সময়ের প্রাণবন্ত ছড়াগুলো ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে অবৈধ বালু ব্যবসার কেন্দ্রে। বিশেষ করে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব মাহালিয়া এলাকার ছাইল্যাতলী ছড়া এখন কার্যত একটি বালুর খনিতে রূপ নিয়েছে।সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনে জমা পড়া একটি আবেদনে দাবি করা হয়েছে, এলাকাবাসী ‘হাত দিয়ে বালু তোলার’ মাধ্যমে ছড়ার পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চায়, যা নাকি কৃষির জন্য উপকারী হবে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাস্তবে সেখানে চলছে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ডাম্পার ট্রাক দিয়ে ব্যাপকহারে বালু উত্তোলন।জানা গেছে, আবেদনকারী হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা আলা উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি আবেদন জমা দেন, যেখানে ‘অসহায়তা’ ও ‘জীবিকার প্রয়োজনে’ বালু তোলার কথা বলা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি মূলত প্রভাবশালী একটি চক্রের পরিকল্পিত উদ্যোগ, যারা এই আবেদনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ছড়াটি থেকে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন করছে।সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ছড়ার বুক চিরে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে এবং তা ট্রাকে ভরে সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনে পূর্বে আবেদন করার কথা বলে এই কাজকে বৈধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে, যদিও কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এসব কাজ চালানো হচ্ছে।স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এইভাবে বালু তোলার ফলে পানি প্রবাহের গতিপথ বদলে যেতে পারে, যা ভূমিক্ষয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ফসলি জমিও। আরো উদ্বেগের বিষয় হলো, এই কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করলে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। অনেকেই পরিচয় গোপন রেখে জানান, বালু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জড়িত কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে।একসময় কৃষিভিত্তিক ছাইল্যাতলী ছড়া এখন রূপ নিয়েছে অর্থলোভী মানুষের আয়ের উৎসে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে শুধু কৃষিই নয়, প্রশাসনের ওপর মানুষের আস্থাও নষ্ট হবে।আলা উদ্দিন বলেন, তার নির্মাণকাজের জন্যই বালু তোলা হচ্ছে এবং তিনি এ ব্যাপারে ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই ছড়া সরকারি জমিতে অবস্থিত এবং এতে কোনো ব্যক্তিগত ক্ষতি হচ্ছে না।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারিস্তা করিম বলেন, ‘আমরা সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ছড়া থেকে বালু তোলা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আমরা এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
