গত দু’দিনের টানা বৃষ্টির কারণে চাঁদপুরের নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানে অব্যাহতভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার আবহাওয়া অফিস ২৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে, যা চলতি মৌসুমে একদিনে সর্বোচ্চ।এছাড়াও, নিম্নচাপের প্রভাবে শুধু বৃষ্টি নয়, নদী ও নদীর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে অস্বাভাবিক জোয়ার ও স্রোতের কারণে প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন। ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলো হলো জেলা সদরের ইব্রাহিমপুর, হানারচর, লক্ষ্মীপুর ও হাইমচর ফরিদগঞ্জ এবং শাহারাস্তি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম। এসব এলাকায় ইতোমধ্যে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও কিছু কিছু মাছের খামারে পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়াও, অনেক পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে; চরাঞ্চলের মানুষ ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে শুরু করেছে।স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টি ও তীব্র ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়েছে। ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ভারতের উজানে বৃষ্টিপাত বাড়তে থাকলে পদ্মা ও মেঘনায় পানি দ্রুত বেড়ে বিপদসীমার ওপরে চলে যেতে পারে।শুক্রবার (৩০ মে) সকালে চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ শোয়েব জানান, শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিপুল বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের প্রভাবে আরও ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। সকাল নয়টা থেকে বিকাল ছয়টা পর্যন্ত চাঁদপুর জেলার জন্য দুই নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে।এ বিষয়ে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী মোঃ আতিকুল ইসলাম জানান, এখনো মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি। তিনি জানান, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ নিয়ে ইতোমধ্যে সতর্কতা ও প্রস্তুতির জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
