ময়মনসিংহের নান্দাইলে বাদাম তোলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। ভালো ফলন ও ভালো দাম পেয়ে খুশি তারা। বাদাম চাষে কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। তাদের মুখে তৃপ্তির হাসি। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে নান্দাইলে ৮ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। এতে কৃষক মাইজচর, ঢাকা ওয়ান ও স্থানীয় জাতের বাদাম চাষ করেছেন। হেক্টর প্রতি চার থেকে সাড়ে চার টন বাদাম হয়ে থাকে। সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বাদামের চাষ হয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা বাদাম তোলা, গাছ থেকে বাদাম আলাদা করা, রোদে শুকানো ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণী। চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরকামট খালী, চরকোমরভাঙ্গা, চরশ্রীরামপুর, চরভেলামারী, চরলক্ষিদিয়া সহ চরাঞ্চলে ব্যাপক বাদামের চাষ হয়েছে। এছাড়াও বীরকামট খালী, হাটশিরার চরাঞ্চলসহ বিক্ষিপ্তভাবে বাদামের চাষ হয়েছে। কৃষকরা জানান, প্রতি ১০ শতক জমিতে বাদাম চাষে খরচ হয়েছে ২ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ মণ বাদাম। বর্তমানে বাদাম বিক্রি হচ্ছে প্রায় চার হাজার টাকা দরে। এতে খরচ বাদে কৃষকের লাভ প্রায় ৬ হাজার টাকা। বীরকামট খালী গ্রামের কৃষক রিটন ১০ শতাংশ, শাহাব উদ্দিন, সুরুজ, আফাজ উদ্দিন ৩০ শতক, দুলাল ১৫ শতক ও আব্দুল হাই ৩০ শতক জমিতে বাদামের চাষ করেছেন। কৃষক রিটন মিয়া বলেন, ‘আমি ১০ শতক জমিতে বাদাম চাষ করছি। দুই মণ বাদাম হয়েছে। এতে আমার প্রায় ৬ হাজার টাকা লাভ থাকবে।’ কৃষক আফাজ উদ্দিন বলেন, ‘৩০ শতক জমিতে বাদাম চাষ করছি। ভালো ফলন হয়েছে। বাদাম তুলে রোদে শুকাচ্ছি। বাদামের ভালো দাম থাকায় অনেক লাভ হবে আমার।’ উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘বাদাম একটি লাভজনক ফসল। অল্প খরচে কৃষকের লাভ বেশি হয়। নান্দাইলে বাদামের ভালো ফলন ও দাম পেয়ে কৃষক খুশি।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাঈমা সুলতানা বলেন, ‘নান্দাইলে চরাঞ্চলে বাদামের চাষ বেশি হয়ে থাকে। এবার বাদামের ভালো ফলন হয়েছে। ভালো ফলন ও ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষক। বাদাম চাষে কৃষকরা লাভবান হয়েছেন।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
