চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ভিত্তিতেই আসন দেওয়া হওয়ার কথা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। অপেক্ষাকৃত কম ফল নিয়েও আসন পেয়েছেন ছাত্রশিবিরের এক নেতা। শুধু তাই নয়, তিনিই এখন আসন্ন হল সংসদ নির্বাচনে শিবির–সমর্থিত প্যানেল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে প্রার্থী হয়েছেন।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী নিয়ামত উল্লাহ (আবরার ফারাবী নামেও পরিচিত) পেয়েছেন ২.৬৫ সিজিপিএ। অথচ ওই হলে আসন পেতে হলে অন্তত ২.৯২ প্রয়োজন। চলতি বছরের ১২ আগস্ট প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য উঠে আসে। তবুও তিনি সোহরাওয়ার্দী হলের ২১৫ নম্বর কক্ষে একক আসনে অবস্থান করছেন।প্রশ্ন উঠলে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবদুল মান্নান সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষের দুটি আসন বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। সে ক্ষমতার ভিত্তিতেই তাঁকে আসন দেওয়া হয়েছে। ডাইনিং ও খেলাধুলার কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে।’তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই বরাদ্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেননা নীতিমালা অনুযায়ী বিশেষ বিবেচনায় আসন বরাদ্দ দেওয়া গেলেও তা একক নয়, দ্বৈত আসনে হতে হবে।সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিশেষ বিবেচনায় হলে শিক্ষার্থী একক আসন নয়, কেবল দ্বৈত আসন পেতে পারে। একক আসন কোনোভাবেই বৈধ নয়।’অন্যদিকে চবি শাখার শিবির শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, ‘নিয়ামত উল্লাহ আর্থিক সমস্যার কারণে বিশেষ বরাদ্দে আসন পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক হলে ১০ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ বিবেচনায় আসন দেওয়া যায়।’ফল কম থাকা সত্ত্বেও হলে তাঁর থাকা নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর অতীত ফেসবুক পোস্টগুলো সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার জন্মদিনে পোস্ট দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘শুভ জন্মদিন গণতন্ত্রের মানসকন্যা, মাদার অব হিউম্যানিটি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।’এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীনকে ‘চট্টগ্রামের সিংহপুরুষ’ উল্লেখ করে শুভেচ্ছা জানান তিনি। এমনকি একসময় জামায়াত-শিবিরকে ‘খুনি’ আখ্যায়িত করেও পোস্ট দেন।নিয়ামত উল্লাহ একসময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘হলে থাকতে গেলে ছাত্রলীগ করতে হয়েছিল। তাই বাধ্য হয়ে সক্রিয় ছিলাম। তবে ২০২২ সালের জুনে ছাত্রলীগ থেকে সরে আসি।’পরবর্তীতে তিনি ছাত্রশিবিরে যোগ দেন এবং বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী হল শাখার সভাপতি। সম্প্রতি তাঁকে শিবির–সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী করা হয়েছে।চবি শাখার শিবির সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ‘ফারাবী সব আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। সোহরাওয়ার্দী হলে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ থাকা অবস্থাতেই তিনি শিবিরের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হন।’ছাত্রলীগ থেকে শিবিরে যাওয়া প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, ‘ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত অনেককে ক্ষমতার পালাবদলের পর আশ্রয় দিচ্ছে শিবির। এতে করে তাদের সংগঠন আরও শক্তিশালী হচ্ছে।’চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। অথচ ১৪টি হলে থাকা যায় কেবল ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থীর। বাকি ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বাইরে থেকে থাকতে হয়। তাই আসন বরাদ্দে নিয়ম মানা জরুরি হলেও বাস্তবে প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়ম ভাঙার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
