বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের বিভাগীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেছেন, ‘জামায়াত কখনও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করবে না। বরং যারা আজ জামায়াতকে ঠেকাতে চাইছে, তারাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মেলাতে পারে।’শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।তিনি বলেন, একটা নতুন বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে— জামায়াত যদি ক্ষমতায় যায়। তার মানে এখন কিন্তু যদি দিয়ে বলতেছে। জামায়াত যদি ক্ষমতা যায় তাইলে আওয়ামী লীগ ফিরে আসার সম্ভাবনা আছে। উনারা রাজনীতির চাইলে এতো বড় ভুল করবেন এটাতো ভাবতেও অবাক লাগে। আকন্দ আরও বলেন, যে আওয়ামী লীগ আল্লামা সাঈদীকে ৪৮ দিন রিমান্ডে রেখেও তার অবস্থান থেকে টলাতে পারেনি, যে আওয়ামী লীগ কাদের মোল্লার ফাঁসির আগে জামায়াত নেতাদের কাছে প্রলোভন পাঠিয়েছিল— সেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াত কখনও আঁতাত করবে না। যাদের নেতারা হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে গেছেন, তারা মিথ্যাচারী স্বৈরাচার দলের সঙ্গে হাত মেলাবে— এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। বরং আপনারাই (বিএনপি) এটা করবেন।মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন জামায়াত ক্ষমতায় চলে যাচ্ছে। জামায়াত কেটে যদি ঠকাতে হয় তাহলে আপনাদের সাথে আরেকটি শক্তি দরকার সেটা হলো পতিত স্বৈরাচার (আওয়ামী লীগ)। তারা হইলে আপনাদের জন্য সুবিধা। এবং এটাই হওয়ার জন্য আগামী দিনের ধাবিত হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষ আজন্ম ভারতের বিরুদ্ধে এবং সেকুলারিজমের বিরুদ্ধে। আর ভারতের বিরুদ্ধে হওয়ায় কারণে বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগেরও বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসুতে ছাত্রশিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরে তারা বলতেছে এই ছাত্র সংসদ নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব পড়বে না। প্রভাব যদি নাই পড়তো তাহলে তারা এগুলো নিয়ে ব্যস্ত হতো না। ইতিমধ্যেই তারা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পরে তাদের নাট-বল্টু ঢিলা হয়ে গেছে। মতিউর রহমান আকন্দ আরও বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে জামায়াত ইসলামের বাংলাদেশ। আগামী নির্বাচনে সকল ইসলামী দল ও গণতন্ত্রকামী দল একসাথে জোট হয়ে দেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবে। সদস্য (রুকন) সম্মেলনে জেলা আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলার নায়েবে আমির অধ্যক্ষ আজিজুল হক, সাবেক আমির মাওলানা তৈয়্যবুজ্জামান, আদুস সালামসহ জেলা ৬টি সংসদীয় আসনের মনোনীত নেতৃবৃন্দ। সম্মেলনে কিশোরগঞ্জ জেলার নারী-পুরুষ সাত শতাধিক সদস্য (রুকন) উপস্থিত ছিলেন।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
