ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার অন্তর্গত বল্লভদি ইউনিয়নের বাউশখালী গ্রামে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দুই শত বছরের পুরনো বাউশখালী জমিদার বাড়ি। সালথা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি এক সময় ছিল জমজমাট জনবসতি, আর এখন নিস্তব্ধ এক স্মৃতিস্তম্ভ।ঐতিহাসিক পটভূমি ১৭৬০ সাল থেকে এই জমিদার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন সিংহ পরিবার। যদিও শুরুর দিকের জমিদারদের নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না, তবে ১৮৫৯ সালে জন্ম নেওয়া যতীন্দ্রনাথ সিংহ রায় বাহাদুর ছিলেন এই পরিবারের অন্যতম উজ্জ্বল নাম। তিনি বঙ্গীয় সিভিল সার্ভিসে দীর্ঘ ৩০ বছর দায়িত্ব পালনের পর সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। ফরিদপুরের একাংশে তিনি জমিদারিত্ব করতেন। তাঁর স্ত্রী সরোজিনী সিংহ ও তিনি আমৃত্যু বাউশখালী জমিদার বাড়িতে বসবাস করতেন। তাদের মৃত্যুর পর কোথায় সমাধিস্থ করা হয়েছে তা আজও অনির্দিষ্ট।পরবর্তী প্রজন্মের অবদান যতীন্দ্রনাথ সিংহের একমাত্র পুত্র সুরেন্দ্রনাথ সিংহ কলকাতায় বসবাস শুরু করলেও, তাঁর পুত্র সত্যজিৎ সিংহ (বৈদ্যনাথ বাবু) ১৯৫২ সালে স্ত্রী রেখা রাণী সিংহকে নিয়ে ফিরে আসেন বাংলাদেশে এবং বাউশখালী জমিদার বাড়িতে পুনরায় বসবাস শুরু করেন।সত্যজিৎ সিংহ ছিলেন সমাজসেবক। হাট-বাজার, শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে জমি দান করে এলাকায় অবদান রাখেন। তিনি ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর এবং তাঁর স্ত্রী রেখা রাণী সিংহ ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁরা উভয়েই সমাহিত হন সিংহবাড়ি সংলগ্ন দুর্গা মন্দিরের পাশে।সিংহবংশের কেউ বর্তমানে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে নেই। রেখে যাওয়া স্মৃতিচিহ্ন, ঠাকুর দালান ও জমিদার বাড়ির দেখাশোনা এবং সংরক্ষণের জন্য রেখা রাণী সিংহ তাঁদের সম্পত্তি রাধাগোবিন্দের নামে দান করেন।বর্তমান অবস্থা জমিদার বাড়ির প্রাসাদতুল্য নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে চুন-সুরকি, ইট, কাঠ ও লোহার সমন্বয়। রয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন মন্দির এবং তিনতলা বিশিষ্ট দুটি প্রাচীন ভবন। এক সময় যে বাড়িতে ছিল সোনা-রুপার অলংকার, পাথরের মূর্তি, তামা-কাসার আসবাব, এখন সেখানে শুধুই নীরবতা আর ভাঙনের শব্দ।স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহীন ‘সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, জমিদার বাড়িটি এখন পরিত্যক্ত এবং শুধুই একটি স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে টিকে আছে। তাঁর মতে, এটি দ্রুত সংস্কার করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা উচিত।সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বাউশখালী জমিদার বাড়ি কেবল একটি পারিবারিক স্থাপনা নয়, এটি এক যুগের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অনন্য দলিল। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ না করলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হবে। সরকারি উদ্যোগ, গবেষকদের আগ্রহ, এবং স্থানীয় জনগণের সচেতনতা এই নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত জরুরি।এসআর

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দামে আগুন
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দামে আগুন

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা পর্যায়ে পেট্রোলের গড় দাম ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিন বছরেরও বেশি সময় Read more

বেবিচকের খোঁড়াখুঁড়িতে ড্রেনেজ অচল, তীব্র জলাবদ্ধতা বিমানবন্দর এলাকা
বেবিচকের খোঁড়াখুঁড়িতে ড্রেনেজ অচল, তীব্র জলাবদ্ধতা বিমানবন্দর এলাকা

টানা বর্ষণে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের সামনে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে টার্মিনালে প্রবেশ ও বের হতে চরম Read more

জুলাই সনদ হওয়ার পর নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হবে: নাহিদ ইসলাম
জুলাই সনদ হওয়ার পর নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হবে: নাহিদ ইসলাম

জামালপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, মৌলিক সংস্কারের রূপরেখা জুলাই সনদের মধ্যে থাকতে হবে। এর মধ্যে অধিকাংশ Read more

ছুটি শেষে কাজে ফিরেই কারখানায় মৃত্যু
ছুটি শেষে কাজে ফিরেই কারখানায় মৃত্যু

মাত্র ৪০ দিন বয়সী কন্যাসন্তান ও স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে জীবিকার তাগিদে কর্মস্থলে ফিরেছিলেন আব্দুল হাকিম (২৪)। কিন্তু কাজে যোগ দেওয়ার Read more

ভ্রু প্লাকে হতে পারে যে ভয়াবহ রোগ
ভ্রু প্লাকে হতে পারে যে ভয়াবহ রোগ

ভ্রু হলো চোখের রত্ন। সুন্দর ভ্রু মুখের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই অনেক নারীই নিয়মিত আইব্রো বা ভ্রু প্লাক করেন। Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন