ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করার প্রতিবাদে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামরুল হাসান মোল্লা বিষয়টিকে ‘জনগণের আন্দোলন’ আখ্যা দিয়ে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে।সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইসির সিনিয়র সচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠান ডিসি। চিঠিতে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে জাতীয় সংসদীয় আসন ২১৪ ফরিদপুর-৪–এর অন্তর্ভুক্ত রাখার অনুরোধ জানানো হয়।চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গেজেটে ফরিদপুর-২ ও ফরিদপুর-৪ আসনের নতুন সীমানা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ভাঙ্গার সাধারণ মানুষ সড়ক ও রেল অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাচন অফিস, ভাঙ্গা থানা, হাইওয়ে পুলিশের কার্যালয়সহ একাধিক সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এতে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।ডিসি চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, ভাঙ্গা থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে আলাদা করে ফরিদপুর-২–এ যুক্ত করায় উভয় আসনের মানুষ ক্ষুব্ধ। বৃহত্তর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থাকায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ইউনিয়ন দুটিকে ফরিদপুর-৪–এ অন্তর্ভুক্ত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।এদিকে হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এক ফেসবুক বার্তায় পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দাবিগুলো মেনে নিন, আমরা ঘরে ফিরে যাই।’ভাঙ্গাবাসীর দাবিগুলো হলো: আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে পুনরায় ভাঙ্গা উপজেলাসহ ফরিদপুর-৪ আসনে অন্তর্ভুক্ত করা; চেয়ারম্যানসহ সব আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া; নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার; নতুন করে কোনো মামলা না দেওয়া; রাতের বেলায় প্রশাসনের হয়রানি বন্ধ করা।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
