লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ওপর দা হাতে হামলা চালান স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জুয়েল। পরে নিজেকে ‘ভিকটিম’ সাজিয়ে থানায় গিয়ে মামলা করতে গেলে উল্টো গ্রেফতার হন তিনি। কারণ, পুলিশের হাতে থাকা একটি ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় হামলাকারী আসলে জুয়েলই।ঘটনাটি ঘটে রবিবার (২৪ আগস্ট) সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের হেতিমপুর গ্রামে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন বিরোধপূর্ণ জমিতে সীমানা প্রাচীর তুলছিলেন নুরজাহান বেগম ও তার পরিবার। হঠাৎ দা হাতে হাজির হয়ে কাজ বন্ধ করতে বলেন জুয়েল। একপর্যায়ে তিনি নুরজাহানের মেয়ে সুফিয়া বেগমকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে সুফিয়ার ডান হাতের রগ কেটে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।পরে ঘটনাস্থলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ৪৩ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে দেখা যায়, খালি গায়ে হাতে দা নিয়ে জুয়েল চিৎকার করতে করতে সুফিয়ার দিকে তেড়ে যাচ্ছেন এবং কোপাতে শুরু করেন। স্থানীয়রা বাধা দিলে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘কী হয়েছে, সমস্যা কী’।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করলে পাল্টা মামলা করতে থানায় যান জুয়েল। তবে ভিডিও দেখে পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করে।এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি নিয়ে নুরজাহান পরিবারের সঙ্গে জুয়েলের বিরোধ চলছে। ফসল, মাছ, নির্মাণসামগ্রী এমনকি স্বর্ণালঙ্কার লুট করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।গ্রেফতারের পর আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে জুয়েল দাবি করেন, তিনি বরং প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন। থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ অন্যায়ের সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করেছে।পরবর্তীতে সন্ধ্যায় তার স্ত্রীও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন। যদিও তদন্তে সেটি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেন মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, গ্রেফতার হওয়া জুয়েলের বিরুদ্ধে আগেই মামলা ছিল। এছাড়া পুলিশের কাছে ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজও ছিল এবং তাকে খোঁজা হচ্ছিল। পরে অভিযুক্ত নিজে থানায় আসায় ভিডিও ও মামলার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া মাদক আইনে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা চলমান রয়েছে।জুয়েলের স্ত্রীর দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এজাহারটি তদন্ত করা হয়েছে, কিন্তু সেখানে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাই এটি ভিত্তিহীন অভিযোগ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
