চিকিৎসকের উপর হামলার বিচার ও নিরাপত্তা কর্মস্থল নিশ্চিতের দাবিতে কর্মবিরতি চালাচ্ছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। গতকাল সোমবার (১৮ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতি কর্মসূচির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ও স্বজনরা। যদিও অল্প কিছু সংখ্যক চিকিৎসকরা দায়িত্বে রয়েছেন। তবে এর আগে একই দাবিতে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এর মধ্যে যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তাহলে কঠোর কর্মসূচির হুমকিও দিয়েছেন তারা। আজ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকাল থেকে তৃতীয় দিনের মতো ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি চলছে। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে তারা শেবাচিম হাসপাতালের সামনে কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন করে বিক্ষোভ করেন। এর আগে, সোমবার দুপুরে হাসপাতালের তৃতীয় তলার সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণ শাটডাউনে যাওয়ার আলটিমেটাম দেয়া হয়। ধর্মঘটের ফলে গত তিনদিন ধরে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না রোগীরা। ইনডোর ও আউটডোর সব জায়গাতেই বিরাজ করছে একই পরিস্থিতি। শেবাচিম হাসপাতালের মিড লেভেল ডাক্তার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. শাখাওয়াত হোসেন সৈকত বলেন, অবিরাম কর্মবিরতি চললেও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু রেখেছি আমরা। পরিচালক মহোদয়ের অনুরোধে ইনডোর ও আউটডোরে দায়িত্ব পালন করছেন আমাদের চিকিৎসকরা। তবে নিরাপত্তাই যদি না থাকে, তাহলে কিভাবে কাজ করব আমরা? দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট চলমান থাকবে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনির বলেন, জরুরি সেবা স্বাভাবিকভাবেই চলছে। হামলা ও মারধরের পর ডাক্তাররা ভয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছিলেন। পরে পুলিশ প্রহরায় জরুরি চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়। সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই ইন্টার্ন ডাক্তাররা কাজে ফিরবেন। অন্যদিকে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার দাবি আদায়ে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সামনে জড়ো হয়ে ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের দিকে যাওয়ার সময় মিছিলের মধ্যে থাকা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সোহানকে গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী তার বিভিন্ন ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
