প্রমাণ ব্যতীত কারো প্রতি অহেতুক খারাপ ধারণা করা ইসলামে হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ (অহেতুক) অনুমান হতে দূরে থাক। কারণ (অহেতুক) ধারণা কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাপ।’ (সুরা হুজরাত)সৎ এবং আল্লাহভীরু লোকদের ব্যাপারে এমন ধারণা পোষণ করা, যা মন্দ অথচ ভিত্তিহীন এবং যা মিথ্যা অপবাদের আওতায় পড়ে। হাদিসে এ খারাপ ধারণাকে সবচেয়ে বড় মিথ্যা সব্যস্ত করে এর থেকে বিরত থাকার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘তোমরা খারাপ ধারণা থেকে বিরত থাক।’তোমার যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ কোরো না। অবশ্যই কান, চোখ ও হৃদয়—এগুলোর প্রতিটি সম্পর্কে (কিয়ামতের দিন) কৈফিয়ত তলব করা হবে। [সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৬ (প্রথম পর্ব)]ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে একটি বড় সমস্যা হলো, না জেনে কথা বলা, অমূলক সন্দেহ করা, আপনজনের কথা বাছ-বিচার ছাড়াই বিশ্বাস করা ইত্যাদি। অথচ সমাজে এমন বহু কথা ছড়িয়ে পড়ে, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।এ ধরনের ভিত্তিহীন গুজব মানুষে মানুষে সম্পর্ক নষ্ট করে। তাই শোনা কথার সত্যতা যাচাই করা জরুরি। ইসলামে খবরের সত্যতা যাচাইয়ে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে।ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো বার্তা নিয়ে আসে, তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে। যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্পদের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে যাতে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে না হয়।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ৬)যাচাই না করে কোনো খবর প্রকাশ করা ও বিশ্বাস করা মিথ্যাবাদী হওয়ার নামান্তর। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যা শুনেছে, তা-ই (যাচাই করা ছাড়া) বর্ণনা করা মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ (মুসলিম শরিফের ভূমিকা : ১/১০৭; আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৯২)যাচাই না করে কারো নামে কিছু চাউর করে দেওয়া গর্হিত অপরাধ। হীনস্বার্থে কারো চরিত্রে কালিমা লেপন ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।ব্যক্তিগত আক্রোশে কাউকে হেয় করার জন্য কারো একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরা ইসলামের দৃষ্টিতে গর্হিত কাজ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ কখনো যেন তোমাদের সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৮)একজন ব্যক্তির গোপন বিষয় মানুষের কাছে প্রকাশ করে তাকে খাটো করা ইসলাম পছন্দ করে না। বরং ওই ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষা করাই উত্তম। এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে এসেছে, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম ব্যক্তির দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ পরকালে তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (বুখারি, হাদিস : ২৩১০, মুসলিম, হাদিস : ২৫৮০)মানুষ দুনিয়ার মোহে পড়ে, নিজ দল ও মতাদর্শকে ঊর্ধ্বে রাখার জন্য অন্যের প্রতি মিথ্যা ও অপবাদ আরোপ করে। এটি কোনো সভ্য জাতির কাজ হতে পারে না। সহনশীলতা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সহিষ্ণুতা না থাকলে সমাজে বিবাদ লেগেই থাকে। এতে সমাজের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। কিন্তু কথা মানুষকে বলতেই হবে। তবে মিথ্যা কথা বলা যাবে না। অকারণে গিবত ও পরনিন্দা করা যাবে না। সঠিক কথা সঠিক পন্থায় বলতে হবে। সমাজের স্থিতি, শান্তি ও সম্প্রীতির স্বার্থে অন্যের কথায় বাছ-বিচার জরুরি। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৭০) এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
