কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় ও ক্রয়কৃত বসতভিটা জবরদখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে মা-ছেলে দুজনকে কুপিয়ে জখম করেছে। এছাড়া বসতবাড়ি ভাংচুর করে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা ক্ষতি সাধনের অভিযোগ উঠেছে।ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড নতুন পাড়া এলাকায় ঘটেছে। হামলার একটি ভিডিও ফুটেজ ২৬ জুলাই শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ভিডিওটি ছাড়ার পর হামলা চালিয়ে জায়গা জবরদখলের খবরটি সবাই জানতে পারে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু তাহের ও তার দুই ছেলেসহ কিছু লোক একটি মহিলাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করছে, পরক্ষণে মহিলাটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ ঘটনায় জায়গার মালিক নুর মোহাম্মদ বাদী হয়ে নুর মোহাম্মদ ও তার দুই ছেলে জামাল ও জমিরসহ ৯ জনের চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করে।মামলার বাদী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের ৬০ বছরের ভোগদখলীয় বসতভিটায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসরত থাকা অবস্থায়, বিগত কিছুদিন পূর্বে জেবুন্নাহার তাদের ৭ কড়া সম্পত্তি রয়েছে দাবি করলে, উক্ত জায়গা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে তাদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি কবলা মুলে খরিদ করি। নুর মোহাম্মদের ক্রয়কৃত জমি পার্শ্ববর্তী আবু তাহের ক্রয় করেছে দাবি করে বার বার জবরদখলের হুমকি দেয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জবরদখলের চেষ্টা করে।’জায়গা জবরদখলের সময় মামলার বাদী নুর মোহাম্মদ স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে দুইজন সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপের কথা বলিলে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জবরদখলকারী আয়াত উল্লাহ আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার দুই গালে থাপ্পড় মারে। সাথে সাথে আমি দৌড়ে গিয়ে বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিই। পরে সন্ত্রাসীরা আমাকে বাড়ির ভেতর থেকে বের করে মারতে থাকে।এসময় আমাকে বাঁচাতে আমার মা আয়েশা বেগম এগিয়ে এলে, আমার মাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে এবং আমাদের বাড়িঘর ভাংচুর করে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশের একটি টীম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
