মাদারীপুরের কালকিনিতে চেতনানাশক দিয়ে অচেতন করে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ সময় কাউকে জানালে শিশুটির পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয় অভিযুক্ত। গুরুতর রক্তক্ষরণে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে ভর্তি করা হয়েছে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে।পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কালকিনি পৌরসভার পশ্চিম পাঙ্গাশিয়া গ্রামের আক্কেল শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার প্রতিবেশী তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে নিজ ঘরে ডেকে নেয়। নাকের সামনে চেতনানাশক ধরার পর শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর দরজা বন্ধ করে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরে আসে শিশুটির। তখন কাউকে জানালে হত্যা করার হুমকি দেয় অভিযুক্ত সোহাগ। পরে কষ্টে বাড়ি ফিরে আসে নির্যাতিতা।প্রথমে ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখে শিশুটির পরিবার। তবে রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। এ অবস্থায় তার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মা প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভর্তি করা হয় জেলা হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে।নির্যাতিতার মা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার অবুঝ মেয়েকে অজ্ঞান করে পাশের বাড়ি সোহাগ যে জঘন্য কাজ করেছে, আবার আমার মেকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমি এখন কোথায় যাবো, কোথায় বিচার পাবো?’এলাকাবাসী জানায়, এ ধরনের জঘন্য অপরাধকারীর কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে আর কেউ এমন নৃশংসতা করতে না পারে।মাদারীপুর জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সিহাব চৌধুরী বলেন, ‘শিশুটি রক্তক্ষরণ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ভর্তি করা হয়েছে।’এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঘটনা শুনে পুলিশের টিম পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনার সাথে জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত সোহাগ শিকদার। বন্ধ রয়েছে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
