কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নওদাবস গ্রামে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বসবাস করা একটি অসহায় পরিবার বর্তমানে নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ জীবনযাপন করছে। স্ত্রী ও দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানকে নিয়ে লাল বাহাদুর রবিদাস প্রায় এক মাস ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।সরেজমিনে জানা গেছে, প্রতিপক্ষরা বসতভিটার চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখায় পরিবারটি একে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে নানা দুর্ভোগে।ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে জানায়, প্রতিবেশী মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে জবরুল হক, জসিম উদ্দিন ও শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।অভিযোগ রয়েছে, গত ৯ এপ্রিল অভিযুক্তরা বসতবাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়ে পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে। পরে ১৪ এপ্রিল তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং আঙিনার মাটি খুঁড়ে শাক-সবজির বীজ রোপণের মাধ্যমে নিজেদের মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে।লাল বাহাদুর রবিদাসের স্ত্রী আরতি রানী জানান, এমন ভাবে বাঁশের চট্টির বেড়া দিয়ে বাড়ীর চারিদিকে ঘিরে রেখেছেন। সেখানে৷ আমার শ্বশুর শ্বাশুড়ি কবর স্থান, টিউবওয়েল, ল্যাট্রিন, রান্না ঘর রয়েছে। বেড়া থাকায় বাড়ির নিত্য দিনের কোন কর্ম কিছুই হচ্ছে না। কি যে কষ্ট দিন পাড় করছি বাহে, একমাত্র সৃষ্টিকর্তায় জানে। এ ঘটনায় অসহায় পরিবারটি গত ২২ দিন ধরে চরম আতঙ্ক ও দুর্দশার মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিনের বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভুক্তভোগী পরিবার তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে বলে জানান জয়নাল আবেদীন, দুলু মিয়াসহ অনেকেই।প্রতিপক্ষ জবরুল হক জানান, আমাদের জমিতে আমরা চট্টির বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছি। এখানে আমাদের করা কি আছে বলেন। তারপরও প্রশাসন এব্যাপারে উদ্যোগ নিলে আমি সমঝোতা মেনে নিবেন বলে জানান। নওদাবস ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মমিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সমাধানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক করা হলেও এখনো সমাধান মেলেনি। তবে সমস্যার সমাধানে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দিলারা আক্তার জানান, তিনি মৌখিকভাবে বিষয়টি জেনেছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
