চণ্ডীদাস আর রজকিনীর অমর প্রেমকাহিনীর কথা আমরা অনেকেই জানি। প্রেমিক-প্রেমিকার পবিত্র মনের ভালোবাসার বন্ধন যে কেমন হতে পারে তা এরা শিখিয়ে গেছেন। চণ্ডীদাস আর রজকিনীর প্রেম শুরু হয়েছিল ৭০০- ৮০০ বছর আগে। তাদের এই প্রেম কাহিনী নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে কত রকম গান, যাত্রাপালা, নাটক ইত্যাদি।মাগুরা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে যশোর-মাগুরা মহাসড়ক থেকে ভিতরে ২ কি.মি দূরে শালিখা উপজেলার ধোপাখালী গ্রাম। চণ্ডীদাস-রজকিনীর স্মৃতিঘেরা ধোপাখালী গ্রামটা পাখ-পাখালির ডাকে ছায়া সুনিবিড় সত্যিকারের বাংলার গ্রাম।এলাকাবাসী জানান, প্রায় ৭০০-৮০০ বছর আগে মাগুরার শালিখার শতখালি ইউনিয়নের খোপাখালি পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। চণ্ডীদাসের বাবা ছিলেন এলাকার একজন ছোটখাটো ব্রাহ্মণ জমিদার আর রজকিনী ছিলেন ধোপার মেয়ে। অপরূপা রজকিনীকে দেখে চণ্ডীদাস জাতপাত ভুলে তার প্রেমে পড়ে যান। তাদের দুজনের বাড়ির মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে নদী। রজকিনী ওপারের ঘাটে কাপড় ধুতে আসলে চণ্ডীদাস মাছ ধরার ছলে বড়শি নিয়ে এপারে বসে তাকে দেখত। এভাবে চলতে থাকে ১২ বছর।১২ বছর পর একদিন রজকিনী চণ্ডীদাসকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কিগো ঠাকুর, বরশিতে মাছ কি ধরে? উত্তরে চন্ডিদাস বলেন’ এইমাত্র বড়শিতে টিপ দিলো মাছ।’ আর তখনই শুরু হয় তাদের কথোপকথন। চলতে থাকে তাদের প্রেম।কিন্তু তৎকালীন হিন্দু সমাজ তাদের এই প্রেম মেনে নেয় না। নানা অপবাদে জর্জরিত হয়ে প্রেমিক-প্রেমিকা একদিন সব ছেড়ে পালিয়ে যান ভারতের বাকুরা ছাতনা গ্রামে। সেখানেও সুখ না মিললে তারা বৃন্দাবনে চলে যান, তারপর তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চন্ডীদাস ও রজকিনীর সেই স্মৃতি বিজড়িত ঘাট এখনও আছে। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসেন জায়গাটি দেখতে। তাই এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীদের দাবি, চন্ডীদাস ও রজকিনীর অমর প্রেমের স্মৃতির জায়গায় একটি পাকা ঘাট করা গেলে স্মৃতি ধরে রাখা সহজ হতো। এখানে বিনোদনের জন্য দেশ বিদেশ থেকে দর্শনার্থীরা আসতো। চন্ডিদাস ও রজকিনীর এসব স্মৃতি রক্ষার্থে পাকা ঘাট তৈরির দাবি জানান স্থানীয় ও দর্শনাথীরা।এ বিষয়ে মাগুরা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা মমতাজ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘চন্ডীদাস ও রজকীনীর অমর প্রেম কাহিনী ইতিহাস মাগুরায়। শতখালি ইউনিয়ন এলাকা মানুষের যে দাবি রয়েছে স্মৃতি রক্ষার্থে সেগুলোর জন্য দরখাস্ত দিলে তা গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।’ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
