গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুন নাহার ইতির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ডা. ইতির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের তদন্ত শেষে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।ডা. ইতির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে গত ৭ এপ্রিল সময়য়ের কণ্ঠস্বর-এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই ডা. ইতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে কর্তৃপক্ষ বলে জানা গেছে।ভুক্তভোগীদের দাবি, ডা. ইতির দায়িত্বকালে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ৩ দিনের ছুটি নিয়ে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনে গেলেও কর্মস্থলে যোগদান করেন ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘ এই অনুপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, ওষুধ সরবরাহের তালিকা থাকলেও বাস্তবে প্যারাসিটামল, এন্টাসিড, হিস্টাসিন ও আয়রন ছাড়া তেমন কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না। এতে গর্ভবতী নারী ও শিশু রোগীরা ঝুঁকিতে পড়ছেন।আরও অভিযোগ রয়েছে—ইনজুরি সার্টিফিকেট আটকে রেখে অর্থ আদায়, রোগীর সংখ্যা বেশি দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ এবং স্টাফদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো নানা অনিয়মের।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে শয্যা সংখ্যা বাড়লেও সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়নি। পাশাপাশি দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।ডা. নাজমুন নাহার ইতি ২০১৪ সালের ২৬ আগস্ট মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১৮ সালে পদোন্নতি পেয়ে আরএমও হন। ২০২১ সালে তার বদলির আদেশ হলেও তা প্রত্যাহার হয়ে পুনরায় একই কর্মস্থলে বহাল থাকেন।সরকারি কোয়ার্টারে থাকার নিয়ম থাকলেও তিনি সেখানে না থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে যাতায়াত করেন বলে জানা গেছে। এমনকি সরকারি কোয়ার্টার অন্যদের ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তিনি স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে চীনে যান এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ কর্মস্থলে যোগদান করেন। ছুটি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এ বিষয়ে ডা. নাজমুন নাহার ইতি বলেন, “আমি মাঝে মধ্যে হাসপাতালে থাকি, কোনো সমস্যা হলে মোবাইলে যোগাযোগ রাখি।”উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাদিয়া তাসনিম মুনমুন বলেন, “তিনি তিন দিনের ছুটির কথা বলে সাত দিনের ছুটি নেন। পরবর্তীতে পারিবারিক সমস্যার কথা জানান। তবে নিয়ম অনুযায়ী সাত দিনের বেশি ছুটি দেওয়া সম্ভব না হলেও তিনি প্রায় এক মাসের বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।”তিনি সময়য়ের কণ্ঠস্বর-কে মুঠোফোনে জানান, ডা. নাজমুন নাহার ইতির বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা তদন্তের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
