টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গত এক সপ্তাহ আগে নদীর পাড়ে পুতে রাখা গর্ত থেকে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত মা ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। তবে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসায় মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।জানা যায়, এই ঘটনার ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে হয়েছে দাবী করে পোস্ট করা হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ বলছে, তাকে হত্যার পর মরদেহ গুমের জন্য গর্ত করে পুতে রাখা হয়েছিল।পুলিশ জানায়, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামের লৌহজং নদীর পাড়ের গর্তে থেকে অজ্ঞাত মা ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরআগে স্থানীয়রা ওই এলাকায় দুর্গন্ধ পেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত নারীর চুল দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দেয়ার পর মাটি খুঁড়ে দুইটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৮-১০ দিন আগে ওই নারীকে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে সেখানে গর্তে পুতে রাখা হয়েছে ধারণা পুলিশের। অজ্ঞাত ওই নারী ৭ মাসের গর্ভবতী ছিল। মরদেহ পঁচে যাওয়ায় এক সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলেও পরিচয় এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।পরে ২১ এপ্রিল মরদেহ দুইটির ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে মির্জাপুর পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডটি অন্য কোথাও ঘটিয়ে প্রমাণ লোপাট ও গুম করার উদ্দেশ্যে নদীর নির্জন পাড়ে গর্ত করে পুতে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে মা ও নবজাতকের পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।এদিকে ঘটনার কয়েকদিন পর ওই মৃত নারী ও শিশুর ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকেই বলছেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে।পরিচয় না পাওয়ায় বেওয়ারিশ হিসেবে মা ও ছেলে নবজাতককে মির্জাপুর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানান মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাবেদ পারভেজ।সহকারী পুলিশ সুপার এএসপি (মির্জাপুর-নাগরপুর) সার্কেল আদনান মুস্তাফিজ জানান, নারীকে হত্যা করা হয়েছে এটা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেলেও ধর্ষণ হয়েছি কিনা সেটা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া জানা যাবে না। মরদেহ পঁচে যাওয়ায় তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। দেশের সব থানায় মৃতের ছবি পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত হচ্ছে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
