কুমিল্লা নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে অবশেষে পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হলো মোগলটুলি এলাকার দীর্ঘদিন অবহেলিত নাজির পুকুরে।শনিবার (২৫ এপ্রিল) কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে পুকুরটির ময়লা আবর্জনার স্তুপ ও কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর উপস্থিতিতে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে নানা জটিলতা ও মামলার কারণে পুকুরটি অযত্নে পড়ে ছিল। এতে পুকুরটি পরিণত হয় মশার প্রজনন কেন্দ্রে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অবশেষে সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মাঝে। স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে কেউ পুকুরটি পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেয়নি। অতীতে জনপ্রতিনিধিরা যেটি করতে পারেননি, বর্তমান প্রশাসক সেটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।উদ্বোধনী বক্তব্যে কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, পুকুর সংক্রান্ত মামলা আদালতের বিষয় হলেও জনস্বার্থে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে কোনো আইনি বাধা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, নাজির পুকুর দীর্ঘদিন ধরে মশার প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়ে নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছিল। তাই নগরকে গ্রীন ও ক্লিন সিটিতে রূপান্তরের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের এলাকায় এ ধরনের মশার প্রজনন কেন্দ্র বা অপরিচ্ছন্ন স্থান থাকলে সিটি কর্পোরেশনকে জানাতে হবে। সেসব স্থানেও পর্যায়ক্রমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন, সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকাবাসী। নগর উন্নয়নে এ উদ্যোগকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
