লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক দিনের ছুটি নিয়ে টানা প্রায় ১০ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন দুইজন চিকিৎসক। বিস্ময়কর এই ঘটনায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি সংকট, আর প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক নজরদারি নিয়েও।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক) আবুল কাশেম মহিউদ্দিন ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই থেকে এবং সাইচা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার কাজী সামসুদ্দোহা একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তারা দুজনই পারিবারিক কারণ দেখিয়ে এক দিনের ছুটি নেন, এরপর আর যোগ দেননি দায়িত্বে।স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকলেও তারা কোনো বেতন-ভাতা উত্তোলন করেননি। একাধিকবার কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। তাদের স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো চিঠিও প্রাপক না পেয়ে ফেরত এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।এদিকে, প্রতি মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জনবল পরিস্থিতির প্রতিবেদন লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হলেও এখনো পর্যন্ত পদ দুটি শূন্য ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নতুন চিকিৎসক নিয়োগও সম্ভব হয়নি।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. বাহারুল আলম বলেন, “দুই চিকিৎসকের অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু পদ শূন্য ঘোষণা না হওয়ায় নতুন করে কাউকে পদায়ন করা যাচ্ছে না। এতে করে প্রায় চার লাখ মানুষের জন্য মাত্র ২১ জন চিকিৎসক দিয়ে সেবা দেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে জেলা শহর বা রাজধানীতে যেতে হচ্ছে।তারা আরও বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দায়িত্বে থেকে অনুপস্থিত থাকা শুধু শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়, এটি একটি গুরুতর প্রশাসনিক ব্যর্থতার দৃষ্টান্ত। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
