গভীর রাতের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা। মুহূর্তেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে কাঁচা বসতঘরটি। ঘুম ভাঙতেই নিজের সবকিছু আগুনে পুড়তে দেখেন রোকেয়া আক্তার (৫৫)। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার দুই কক্ষের ছোট্ট ঘরটি পরিণত হয় ছাইয়ের স্তূপে।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকার টাওয়ার রোডে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।ক্ষতিগ্রস্ত রোকেয়া আক্তার মৃত বদিউর রহমানের মেয়ে। স্থানীয়রা জানান, জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই ছোট্ট কাঁচা ঘরটিই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়।ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে আনোয়ারা ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও বসতঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের মধ্য থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য মো. সেলিম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন ঘরটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে। তিনি জানান, রোকেয়া খুবই গরিব ও অসহায়। বাবা মারা গেছেন অনেক আগে। বিয়ে হলেও স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে। বর্তমানে এক বোনকে নিয়ে ওই ঘরেই বসবাস করতেন।’স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আগুন লাগার সময় চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের লিডার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।’অগ্নিকাণ্ডে সব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন রোকেয়া আক্তার। স্থানীয়রা তার পুনর্বাসনে সরকারি ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
