আসন্ন পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে কাবা ঘরে কালো কাপড় বা ‘কিসওয়া’ উত্তোলন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি। এটি মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের একটি শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য।পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারামে এই বার্ষিক ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। টানা ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে গিলাফের নিচের অংশটি ওপরে তুলে তিন মিটার পর্যন্ত সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই প্রথাটি মূলত হজের প্রাক্কালে পবিত্র মক্কায় আগত লক্ষ লক্ষ হজযাত্রীদের প্রস্তুতির একটি দৃশ্যমান সংকেত হিসেবে গণ্য করা হয়।প্রতি বছর হজ মৌসুমের শুরুতে লাখ লাখ মুসলিম উম্মাহর মিলনমেলা বসে কাবা প্রাঙ্গণে। তাওয়াফ চলাকালীন হাজিদের বিপুল ভিড় এবং দীর্ঘ সময় মানুষের স্পর্শ থেকে অমূল্য এই কিসওয়াকে সুরক্ষিত রাখতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।এ ব্যবস্থাপনা ভিড়ের চাপে গিলাফের কোনো ক্ষতি হওয়া বা ঝুলে পড়া রোধ করে। কিসওয়ার বদলে যাওয়া এই রূপটি এহরাম পরিহিত হাজিদের শুভ্রতার সঙ্গে একাত্ম হয়ে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করে।বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ১৮ এপ্রিল কিসওয়া উত্তোলনের এই ক্ষণটি আন্তর্জাতিক হজ ফ্লাইটগুলোর অবতরণ শুরুর সময়ের সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে। ওই একই দিনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে হজযাত্রীদের প্রথম কাফেলাগুলো জেদ্দা ও মদিনার বিমানবন্দরগুলোতে অবতরণ শুরু করেছে।কিসওয়া উত্তোলনের পর পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণ এখন হাজিদের অভ্যর্থনা জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি এভাবেই সংরক্ষিত থাকবে এবং হাজিদের প্রস্থান শেষে পুনরায় আগের অবস্থানে নামিয়ে দেওয়া হবে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
