‘ধর্ম অবমাননা ও কটূক্তি’র অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাবন্দি বাউলশিল্পী আবুল সরকার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ থেকে তিনি মুক্তি পান তিনি।এসময় কারাগার থেকে বের হয়ে প্রথমে রিকশাযোগে মূল ফটকে আসেন আবুল সরকার। পরে সাদা রঙের একটি গাড়িতে করে সেখান থেকে তিনি স্থান ত্যাগ করেন। এসময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।তবে অসুস্থ থাকায় এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন। তিনি জানান, জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই শেষে অন্য কোনো মামলা না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।উল্লেখ্য, আবুল সরকার মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার চর তিল্লী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আমজাদ আলীর ছেলে।এর আগে গত ৬ এপ্রিল বিচারপতি আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ আবুল সরকারের ৬ মাসের জামিনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আবুল সরকারকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন হাইকোর্ট।প্রসঙ্গত, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় খালা পাগলীর মেলায় গত ৪ নভেম্বর পালাগানের আসরে বাউলশিল্পী আবুল সরকার ধর্ম অবমাননা ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তার মন্তব্যের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হয়।এরপর মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে গত ১৯ নভেম্বর রাতে আবুল সরকারকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল। পরদিন সকালে তাকে জেলা ডিবির কার্যালয়ে আনা হয়। সেদিন ঘিওর বন্দর মসজিদের ইমাম মুফতি মো. আবদুল্লাহ বাদী হয়ে আবুল সরকারকে আসামি করে ঘিওর থানায় মামলা করেন। এতে ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের অবমাননা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের উদ্দেশ্যে কটূক্তি ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।ওই মামলায় আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে গত ২০ নভেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় সোমবার (১৩ এপ্রিল) তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করেন।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
