চকরিয়া উপজেলায় বদলে যাচ্ছে কৃষির চিরচেনা রূপ। একসময়ের তামাক চাষের উর্বর ক্ষেত্র মাতামুহুরী নদীর চরাঞ্চল এখন বাদামের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। বিষাক্ত তামাকের পরিবর্তে লাভজনক বাদাম চাষে ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চকরিয়ায় বাদাম চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়- ২০২২-২৩ অর্থ বছরে বাদাম চাষের জমির পরিমাণ ৪২৫ একর, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বাদাম চাষের জমির পরিমাণ ৪৫০ একর ও ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বাদাম চাষের জমির পরিমাণ ৪৬২ একর। এর মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৩৫০ একর জমিই মাতামুহুরী নদীর চরাঞ্চলে অবস্থিত। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, একসময় এই এলাকায় মাত্র ৩০ একর জমিতে বাদাম হতো, যা এখন এক বিশাল বিপ্লবে রূপ নিয়েছে।তামাক ছেড়ে কৃষকদের বাদামে ঝুঁকে পড়ার প্রধান কারণ এর উচ্চ মুনাফা। কৃষকদের সাথে কথা বলে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী জানা যায়, বাদাম চাষে প্রতি একরে উৎপাদন খরচ প্রায় ৬৫০০০ টাকা। প্রতি একরে বাদাম বিক্রি হচ্ছে ১২৫০০০ থেকে ১৪৫০০০ টাকা। ফলে প্রতি একরে লাভ হচ্ছে ৭০০০০ থেকে ৮০০০০।বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বাদাম ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তামাকের তুলনায় পরিশ্রম কম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকায় কৃষকরা বাদাম চাষকে বেছে নিচ্ছেন। মাতামুহুরী নদীর পলিমাটি বাদাম চাষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী জানান ”বর্ষায় পাহাড় থেকে নেমে আসা উর্বর পলি চরাঞ্চলের মাটিকে বাদাম চাষের উপযোগী করে তোলে। তামাকচাষিরা এখন বুঝতে পারছেন যে তামাকের চেয়ে বাদাম চাষ অনেক বেশি লাভজনক এবং পরিবেশবান্ধব। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি।”চরাঞ্চলের কয়েকজন কৃষক জানান, তামাক চাষে দীর্ঘসময় ও বেশি শ্রমের প্রয়োজন হতো, যা স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করত। কিন্তু বাদাম চাষে অল্প সময়েই ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। পলিমাটির উর্বরতা কাজে লাগিয়ে বাদাম চাষ করে তারা এখন আর্থিকভাবে অনেক বেশি সচ্ছল।পরিবেশ ও স্বাস্থ্য রক্ষায় তামাকের বিকল্প হিসেবে চকরিয়ার এই ‘বাদাম বিপ্লব’ দেশের অন্যান্য তামাকপ্রবণ অঞ্চলের জন্য একটি রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
