টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ৭ ইউপি সদস্য। সরকারি বরাদ্দ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের তথ্য উল্লেখ করে তাকে অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তারা। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. রাফিউল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।অভিযোগকারী সদস্যরা হলেন, ২ নং ওয়ার্ডের রফিকুল ইসলাম, ৬ নং ওয়ার্ডের মজিবর রহমান, ৭ নং ওয়ার্ডের লিটন হোসেন, ৮ নং ওয়ার্ডের লুৎফর রহমান, ৯ নং ওয়ার্ডের মো. আলাউদ্দিন ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের শিউলি আক্তার ও ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য সেলিনা আক্তার।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গোড়াই ইউপি চেয়ারম্যান ও ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবীর গোপালপুর উপজেলার কলেজছাত্র ইমন হত্যা মামলার আসামি হন। এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান আদিল খানও একাধিক মামলার আসামি। এরপর থেকেই তারা দু’জনই পলাতক রয়েছেন।পরবর্তী সময়ে একই বছরের ১ ডিসেম্বর দুই নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। গত বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হক (ডিসি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দের প্রকল্প, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, উন্নয়ন সহায়তা, রাজস্ব উন্নয়ন তহবিল, বার্ষিক বাজেটের ১ শতাংশ প্রকল্প, হাটবাজারের রাস্তা নির্মাণসহ ৩১টি প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওই ৭ ইউপি সদস্য। অভিযোগে আরও দাবি করা হয় তিনি সব ক্ষেত্রেই একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এতে পরিষদের সদস্যরা মতামত দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রকল্প বন্টনের ফলে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।গোড়াই ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আলাউদ্দিন বলেন, ডিসি অফিসে একসঙ্গে ৭ মেম্বার লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমাদের ঠকানো হয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিনা আক্তার বলেন, চেয়ারম্যানের অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ দিয়েছি।গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। যে প্রকল্পগুলোর কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন হয়নি। তবে রেজুলেশন করা হয়েছে। এছাড়া মেম্বাররা অনেক প্রকল্পের সভাপতি হয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে তারা।টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হক এর সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (স্থানীয় সরকার শাখা) মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, এরকম একটি অভিযোগ পেয়েছি। ডিসি স্যারের নির্দেশনায় বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
