চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ছররা গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ১২ বছরের এক শিশুসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় শটগান ও দুটি কার্তুজ উদ্ধার করলেও মূল অভিযুক্ত সন্ত্রাসী মো. ফারুক হোসেন পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।শনিবার (রাত) আনুমানিক ১০টার দিকে নগরীর বাকলিয়া থানাধীন মিয়া খান নগর এলাকার ময়দার মিল সংলগ্ন এলাকায় এ সহিংসতার সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার এবং মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে মোরশেদ খান গ্রুপ ও আব্দুস সোবাহান-শওকত গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সেই উত্তেজনার জের ধরেই হঠাৎ করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।পুলিশ জানায়, তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোরশেদ খানের অনুসারীরা প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। তবে হামলায় প্রতিপক্ষের কোনো সদস্য আহত না হলেও নিরীহ সাধারণ মানুষই এর শিকার হন।আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. হাসান, জসিম, ইসমাইল মিয়া এবং ১২ বছর বয়সী শিশু ফাহিম। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের পায়ে ছররা গুলির চিহ্ন এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, মোরশেদ খান নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। নগর পুলিশের প্রণীত ৩০০ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি বিদেশ থেকে দেশে ফিরে পুনরায় এলাকায় সক্রিয় হন। তবে এলাকায় ফিরে আসার পর প্রতিপক্ষ সোবাহান ও শওকতের অনুসারীরা তাকে মারধর করে এলাকা থেকে বিতাড়িত করে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই মোরশেদ খানের অনুসারীরা এই সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।এদিকে, সংঘর্ষের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ফারুক হোসেনের বাসা থেকে একটি দেশীয় শটগান ও দুটি কার্তুজ উদ্ধার করে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে সে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।বিষয়টি নিশ্চিত করে নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, বাকলিয়ার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্কুল মাঠ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। প্রশাসনের নজরদারি দুর্বলতার সুযোগে এসব সন্ত্রাসী চক্র দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যার ফলশ্রুতিতে নিরীহ মানুষকেই বারবার প্রাণহানির ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে।পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
