পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের হিসাব রক্ষক কাম ক্রেডিট সুপারভাইজার মোঃ সাইফুল ইসলামকে অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকার পরও এতদিন বহাল থাকায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। এর আগে সময়ের কণ্ঠস্বরে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জিন্নাত আরা স্বাক্ষরিত ৩০ মার্চের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯(২) ধারা এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ১২(১) বিধি অনুযায়ী সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতারের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন এবং আদেশটি জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।এর আগে, পরকীয়া সংক্রান্ত অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পরও সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন ওঠে। সাধারণত কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ৪৮ ঘণ্টার বেশি কারাগারে থাকলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গেছে।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দেবীগঞ্জ পৌরশহরের সবুজপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে সাইফুল ইসলাম ও যুথি আক্তারকে আটক করেন সাইফুলের স্ত্রী সখিনা খাতুন। পরে সখিনার অভিযোগে দেবীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের হয় এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে আপোসের শর্তে জামিন পেলেও তা ভঙ্গের অভিযোগে সাইফুলের জামিন বাতিল হয়ে তিনি আবার কারাগারে যান।সাইফুল ইসলামের স্ত্রী সখিনা খাতুন অভিযোগ করেন, স্বামীর সঙ্গে আপোস না করায় তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং ডিভোর্স দিয়ে অন্য নারীকে বিয়ে করার কথাও বলা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি অধিদপ্তরে জানানো হয়েছিল এবং অবশেষে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
