পরকীয়া প্রেমিকার সাথে আটকের পর স্ত্রীর মামলায় কারাগারে থাকা সাইফুল এখনো সরকারি চাকরিতে বহাল তবিয়তে আছেন। সাধারণত সরকারি কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী ৪৮ ঘণ্টা কারাগারে থাকলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে ব্যতিক্রম ঘটেছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের হিসাব সহকারী কাম ক্রেডিট সুপারভাইজার সাইফুল ইসলামের ক্ষেত্রে।জানা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দেবীগঞ্জ পৌরশহরের সবুজপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় সাইফুল ও যুথি আক্তার নামে এক নারীকে আটক করেন সাইফুলের স্ত্রী সখিনা খাতুন। পরে সখিনা খাতুনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ সাইফুল ও যুথিকে তাদের হেফাজতে নেন। একই দিন সখিনা দেবীগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করলে নারী ও শিশু দমন আইনে সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পরদিন সাইফুল ও যুথিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। সখিনা খাতুনের অভিযোগ, সাইফুল প্রায় সময় যুথিকে বাসায় নিয়ে এসে একান্তে সময় কাটাতেন। বাধা দিতে গেলেই মারধর ও বাসা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেন।এদিকে গত ৩ মার্চ আদালত সখিনা খাতুনের সাথে আপোসের শর্তে সাইফুলের জামিন মঞ্জুর করেন। অভিযোগ রয়েছে জামিনে এসে আপোসের পরিবর্তে স্ত্রী ও শ্বশুরকে নানা হুমকি দেন সাইফুল। আপোস না হওয়ায় ১৫ মার্চ আদালত সাইফুলের জামিন বাতিল করে আবারো কারাগারে প্রেরণ করে। বর্তমানে সাইফুলের স্ত্রী সখিনা দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে বাবার বাসায় অবস্থান করছেন। সখিনা অভিযোগ করেন, জামিনে এসে সাইফুল তাকে ডিভোর্স দিয়ে যুথি আক্তারকে বিয়ে করবে বলে হুমকি দিচ্ছেন।অপরদিকে, মধ্যবর্তী জামিনের আগে-পরে প্রায় ২৯ দিন কারাবাসের পরও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে সাইফুলের বিরুদ্ধে কোন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এই বিষয়ে পঞ্চগড় মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উপপরিচালক এ. কে. এম ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, ‘শাস্তি প্রদানের এখতিয়ার আমার নেই। আমি ঘটনার পর বিষয়টি জানিয়ে অধিদপ্তরের পরিচালক ও উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এর নিকট চিঠি প্রেরণ করা হয়েছিল। বাকী সিদ্ধান্ত তারাই নিবেন।’এই বিষয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শবনম শিরিন বক্তব্য প্রদানে রাজি না হলেও বলেন, ‘দ্রুত এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
