নোয়াখালী সদরের দুর্গম জনপদ আন্ডারচর ইউনিয়ন এখন সন্ত্রাসীদের আস্তানা, মাদক সেবী ও মাদক কারবারিদের রমরমা ব্যবসায়ের অভয়ারণ্য। ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারি, চুরি-ডাকাতি, অনলাইন জুয়াসহ মানুষের উপর জোর জুলুমের নৈরাজ্য এখানকার নিত্যদিনের ঘটনা। এ সকল কিছুরই প্রকাশ্য নেতৃত্বে রয়েছে স্থানীয় মাদক কারবারি সন্ত্রাসী ক্যাডার নিরব, রিয়াজ, সোহেল। আর তাদের দিয়ে এ অঞ্চলে মাফিয়া শাসন চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় আবু সুফিয়ান।গত ১৩ অক্টোবর রাত আটটার দিকে স্থানীয় আন্ডারচর ইউনিয়নের বাংলাবাজারে ব্যবসায়ী মনির সওদাগরের মুদি দোকানে সশস্ত্র হামলা চালায় এই সন্ত্রাসী বাহিনী। সে হামলায় গুরুতর আহত হয় স্থানীয় বাসিন্দা আকবর (৩৫), মো. দুলাল (৫০) সহ আরো অনেকে। সেদিন আন্ডারগ্রাউন্ড মাফিয়া আবু সুফিয়ানের নির্দেশে আবুল ডাকাতের ছেলে আবু তাহের ডাকাত ও সামু বেপারী বাড়ির চৌধুরীর ছেলে মাদক কারবারি সোহেলের নেতৃত্বে ৭ নং ওয়ার্ডের চৌধুরীর ছেলে শিপন (২৫), ৪ নং ওয়ার্ডের মৃত রইজুলের ছেলে রাকিব (২৫), একই ওয়ার্ডের তাজু মাঝির ছেলে মনির (২৮), একই ওয়ার্ডের হাবি’র ছেলে খলিল (৪৫), ৩ নং ওয়ার্ডের বেলালের ছেলে সোহাগ (২২) সহ অজ্ঞাত আরো ১৪/১৫ জন সন্ত্রাসী এ হামলায় অংশ নেয়।এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরই মধ্যে ভাইরাল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্ত্রাসীরা দৌড়ে এসে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে। এর আগে তারা দোকানের সামনে রাস্তায় ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে, চাইনিজ কুড়াল, কিরিস, লোহার রডসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা বলছেন, এটি ঐ এলাকার স্বাভাবিক দৃশ্য। ই বাহিনীগুলো দিন রাতের যেকোনো সময় প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে থাকে।আন্ডারচর ইউনিয়নে যাকে আন্ডারগ্রাউন্ড গডফাদার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে তিনি আবু সুফিয়ান (৪২) একই ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক। অভিযোগ আছে, তিনি স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডারদের আশ্রয়ে রেখে তাদের দিয়ে সকল অপকর্ম করে যাচ্ছেন। তার ইশারায় তছনছ হয়ে যাচ্ছে যে কোনো সাধারণ মানুষের জীবন। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে একই ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় আরেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর লুটপাট চালায় এ সকল সন্ত্রাসীরা। অভিযোগ আছে, মাদক কারবারি কিশোর গ্যাং সরদার নিরব (২৮) তার ছোট ভাই রিয়াজ (২৩), দিলবার, সবুজ (২৫), নূর হোসেন (২৩), আনোয়ার (৩০), রাসেল (২২), সোহাগসহ অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী সে হামলায় অংশ নেয়।বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসকল অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন। এছাড়াও মামলা সূত্র ও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক ব্যক্তি এ সকল তথ্য নিশ্চিত করেছে।সূত্র বলছে, ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের জহিরুল ইসলারে বাড়ি, ৭নং ওয়ার্ডের আবুল ডাকাতের বাড়ি এবং একই ওয়ার্ডের সামু বেপারীর বাড়িতে রীতিমতো তৈরি হয়েছে মাদকের বড়োসড়ো আস্তানায়। এসব থেকেই ডিস্ট্রিবিউশন হয় মাদকের বড় বড় চালান। এছাড়াও মাদকসেবীদের জন্য ছোট ছোট বেশ কয়েকটি আস্তান রয়েছে এই এলাকায়। যেখানে প্রকাশ্যে গাঁজা, মদ, ইয়াবা ট্যাবলেটের মতো অসংখ্য মারণঘাতী মাদক। এদিকে ৩ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় ভুক্তভোগী আহত জয়নাল আবেদীন ৯জনের নাম উল্লেখ করে নোয়াখালী সুধারাম থানায় এবং গত ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে একটি ( ১৩৫৯/২০২৫ ) মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে আবু সুফিয়ান থানা পুলিশের উপরও প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন। যে কারণে একজন আসামিকে আটক করা হলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করে ছেড়ে দেয়।এ সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবু সুফিয়ান বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে আমাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। যারা এ সকল কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের কাউকে আমি চিনি না। আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা ভিত্তিহীন।আন্ডারচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অজুদ মাঝি এ বিষয়ে বলেন, আবু সুফিয়ানের পৃষ্ঠপোষকতায় এ সকল সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না। আমি দলীয় হাইকমান্ডকে বিষয়টি গুলো অবহিত করেছি।এসকল বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিকে আটক করে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি সত্য নয়। আন্ডারচর ইউনিয়নে সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে যুবসমাজ মোবাইল ক্যাসিনোসহ নানান অপকর্মে যুক্ত হচ্ছে। প্রশাসনের সহযোগিতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আমরা অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছ।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
