ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ শনিবার মধ্য রাত থেকে ইলিশ শিকারে নামবেন ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী দুই লক্ষাধিক জেলে।শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে ভোলার জেলে পল্লীগুলোতে উৎসবমূখর পরিবেশ দেখা গেছে। নদীতে নেমে ইলিশ আহরণের জন্য জাল নৌকা মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।এর আগে, গেল ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পযন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেন সরকার। এসময় সকল প্রকার মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রচার প্রচারণ চালিয়েছেন মৎস্য বিভাগ। এছাড়াও মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিলো ব্যাপক।জেলা মৎস্য অফিসে তথ্যমতে, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় জেলায় ২৮৮ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। এরমধ্যে ১১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, ১০৫ জনকে জরিমানা ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় ৬৭ জনকে মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, আটককৃত নৌকা নিলামে বিক্রি করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত ইলিশ মাছ গরিব, দুস্থ ও এতিমদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।এদিকে শনিবার সকালে ভোলা সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি মৎস্য ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, জেলেরা তাদের জাল নৌকা মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ নৌকা সাজিয়ে অপেক্ষা করছেন নদীতে নামার জন্য। এছাড়াও আড়ৎদাররা তাদের ঘাট পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করছেন। ঢালা সাজিয়ে বসে আছেন মাছ বিক্রির অপেক্ষায়।ভোলার খাল মাছ ঘাটের হেজু মাঝি ও আলমগীর মাঝি জানান, ২২ দিন পর আজ বেকারত্বের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি। জাল নৌকা সাজিয়ে অপেক্ষা করছি। ৭ জন মাঝি মাল্লা নিয়ে রাত ১২ টার পর ইলিশ শিকারের জন্য নদীতে নামবেন তারা। তারা আরও জানান, প্রতি বছর সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা মেনে তারা নদীতে যান না। কিন্তু অসাধু জেলে প্রতিনিয়তই মাছ শিকার করে। এতে নিষেধাজ্ঞা শেষে তেমন একটা ইলিশের দেখা পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন তারা।তুলাতুলি মাছ ঘাটের জেলে হোসেন মাঝি জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ রাত থেকে নদীতে নামবেন তিনি। ধারদেনা করে নতুন জাল ও নৌকা তৈরী করেছেন। এখন মাছ পেলে ধারদেনা পরিশোধ করে ঘুরে দাড়াতে পারবেন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে ২৫ কেজি করে চাল দিয়েছে সরকার। কিন্তু এই চালও তারা সঠিক ভাবে পাননি। ভোলা খাল মাছ ঘাটের জামাল মিয়া জানান, ২২ দিন পর আজ ঘাটে আসলাম। ঘাট পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুত করছি নতুন ভাবে। জেলেরা নদীতে গিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ শিকার করে আনবেন। আবারও উৎসবমূখর পরিবেশে ইলিশ কেনাবেচায় ফিরবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, “ইলিশ সামুদ্রিক মাছ। ডিম ছাড়ার জন্য এই সময়টাতে ইলিশ মিঠাপানিতে ছুটে আসে। মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পরবে বলে আশা করছেন তিনি। এছাড়াও গতবছরের তুলনায় এ বছর ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা করছেন তিনি।তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে আইন অমান্য করে নদীতে ইলিশ শিকার করতে যাওয়া ২৮৮ জন জেলেকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে জেল জরিমানা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ জাল, মাছ ও নৌকা জব্দ করা হয়েছে। যেগুলো পরবর্তীতে জাল আগুনে, মাছ এতিম খানা ও মাদ্রাসায় এবং নৌকা নিলামে তুলে বিক্রি করা হয়েছে। উল্লেখ, জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী জেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ২ শত ৮৩ জন। তবে বেসরকারি হিসেবে এর সংখ্যা দুই লক্ষাধিকেরও অধিক।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
